মলয় দে নদীয়া :-হিন্দু ধর্মে মৃত্যুর পর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে শ্মশান যাত্রার উদ্দেশ্যে মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে যাওয়ার রীতি বহু প্রাচীন। তবে বর্তমান, মানুষের জীবনযাত্রা সময় অভাব এবং সামাজিক সংকীর্ণতা থেকে এককেন্দ্রিক জীবনযাত্রায় শববাহী গাড়ি বিশেষ প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে যা কিছু উন্নয়ন তা শহরকেন্দ্রিক এমনটাই মনে করেন অনেকে। বেশ কিছুটা সময় দেরিতে হলেও, শান্তিপুরের উন্নয়নে এই প্রথম গ্রাম কেন্দ্রিক শববাহী গাড়ি প্রদান করলেন, সাংসদ জগন্নাথ সরকার।
তবে নিন্দুকেরা অনেকেই মনে করছেন পঞ্চায়েত ভোট আসন্ন তাই রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্যই এই তৎপরতা।
যদিও সংসদ জগন্নাথ সরকার, বর্তমান রাজ্য সরকার কে কটাক্ষ করে বলেন, এরা যে কোন বিজেপি সাংসদ বা বিধায়ক উন্নয়ন করা সহজ ব্যাপার নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন মিললেও, নানান সরকারি বাধা বিঘ্ন পেরিয়ে জনকল্যাণে তা ফলপ্রসূত হতে লেগে যায় বহু সময় !এটা দুঃখজনক। এর আগেও চাকদহ ব্লকে এ ধরনের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তবে শেষমেষ তিনি ব্লক আধিকারিক সহ জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেরিতে হলেও, গ্রামের সাধারণ মানুষের জনকল্যাণমূলক এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য।
শান্তিপুর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন অফিসে, গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার পক্ষ থেকে, চাবি তুলে দেওয়া হয় সংসদের হাতে। সেখানেই বিডিওর উপস্থিতিতে, আবেদনকারী শান্তিপুর বাবলা গোবিন্দপুর অঞ্চলের স্বনামধন্য প্রগতি সংস্থার হাতে এই গাড়ির যাবতীয় দায়ভার তুলে দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে, সংস্থার সম্পাদক সুশিত সমাদ্দার জানান, তাদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের অর্থে সারা বছর বিভিন্ন রকম সামাজিক কাজকর্ম করে থাকে। শববাহী গাড়ির পরিষেবা, দিতে কোন লভ্যাংশ তো পাওয়াই যাবে না বরং খরচ নিজেদের চালাতে হবে। তবে মানুষের কাজ করতে এ সুযোগ পাওয়ায় তারা গর্বিত। আপাতত তারা শুধুমাত্র বাবলা অঞ্চলের পরিষেবা চালু করলেও অল্পদিনের মধ্যে সংস্থার অন্য সদস্যদের নিয়ে একটি সভা করে সিদ্ধান্ত করবেন, সহযোগিতামূল্য এবং দূরত্বের পরিধি নিয়ে। তবে তিনি যাবি জানিয়েছেন, সামাজিক কাজকর্ম করার বিভিন্ন ক্লাব এবং সংস্থার পক্ষ থেকে, জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদনের ভিত্তিতে নিজ নিজ এলাকায় এ ধরনের পরিষেবা গড়ে তোলার জন্য।
সংসদ জগন্নাথ সরকারও এ ব্যাপারে, গ্রামীন উদ্যোগীদের আহ্বান জানিয়েছেন।সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন না, এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বাবু কটাক্ষ করে বলেন, নিয়োগ দুর্নীতিতে বিভিন্ন ধরনের তদন্তের কাজে হয়তো উনি ব্যস্ত। তবে মানুষের পরিষেবা দেওয়াই যদি তার উদ্দেশ্য হতো তিনি অবশ্যই উপস্থিত থাকতেন। নিচের ছবিটির সভাপতি বা অন্য কোন সদস্য কেউই সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেননি উপস্থিত থেকে এটা রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ছাড়া আর কিছু নয়।

