ব্রহ্মা পূজা উপলক্ষে নগরবাসীকে আমন্ত্রণের বহু প্রাচীন প্রথা এখন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে শান্তিপুরে

মলয় দে নদীয়া:- শান্তিপুরের লোক উৎসবের মধ্যে অন্যতম অনুষ্ঠান ব্রক্ষ্মা পূজা, আর এই পূজার মূল আকর্ষণীয় হল ব্রহ্মার সাথে স্ত্রী গায়ত্রী র বিবাহ এবং তার নিমন্ত্রন পর্ব। যার দায়িত্বভার নেন স্বয়ং নারদ মুনি, নারদ মুনি সারা শান্তিপুরের মানুষ দের নিমন্ত্রন করেন শোভা যাত্রার মাধ্যমে, থাকে ময়ূরপঙ্খী নানা রকম মজার ছড়া কেটে এই নিমন্ত্রন পর্বর সূচনা হ য় শান্তিপুরের রাজপথে শান্তিপুরের বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে দীর্ঘকাল যাবৎ।

“আজ ব্রহ্মার অধিবাস,কাল ব্রহ্মার বিয়ে”
গোরুর গাড়িতে টানা ঢেঁকির ওপর নারদ মুণি বসে ব্রহ্মার বিয়েতে নিমন্ত্রণ জানাচ্ছেন সারা শান্তিপুরবাসীকে।এই অভিনব পদ্ধতিতে ব্রহ্মা পুজোয় আসার নিমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা করেন বড়োবাজার ব্যবসায়ী সমিতি, তাদের সস্ত্রীক ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর দেবের পুজোতে। এখানে ব্রহ্মাদেবের পুজোকে বিবাহ হিসেবেই ধরা হয়!তাই পুজোর আগেরদিনে ব্রহ্মা থাকেন অধিবাসে!পরবর্তী দিনে শুরু হয় পুজো!সেই পুজো তে আমন্ত্রণ জানাতে ধরাধামে আবির্ভাব হয় নারদমুণির!
এই নারদমুণি র আমন্ত্রণ জানানোর পদ্ধতি বড়োই অদ্ভুত ও মজার!যেখানে তিনি তার কথার মাধ্যমে কষাঘাত করেন সমাজের বিভিন্ন খারাপ পরিস্থিতি ও দূর্নীতি র বিরুদ্ধে। যা সাধারন মানুষ মজার সাথে গ্রহণ ও করে নেন।এইসব ছাড়াও থাকে ব্রহ্মার বিয়েতে খাওয়ানোর মেনু!যা সব থেকে অদ্ভুত ও হাস্যকর আবার অনেকের কাছেই ঘৃণার কারণ।এইসব শেষে নারদমুণি হুকুম করেন “জোর কদমে ঢেঁকি এবার চল রে তাড়াতাড়ি”! এই বলে তিনি দুলতে দুলতে যাবেন পরের কোনো মোড়ে,যেখানে অধীর আগ্রহে মানুষ অপেক্ষা করে আছেন তার এই কথা শোনার জন্য!পুরো শোভাযাত্রা র পথে যত মোড় আছে প্রত্যেক মোড়ে তিনি আমন্ত্রণ জানাবেন সকলকে।প্রতি বছর বছরের শুরুর প্রথম উৎসবে নারদমুণির এই বচন শোনার জন্য মানুষের উত্তেজনা থাকে প্রবল।
সাথে থাকে ময়ূরপঙ্খীর গান যেখানে তালের সাথে সাথে ছড়া কেটে ঘোড়ার গাড়ির ওপর ময়ূরপঙ্খীতে চড়ে বলতে থাকেন সমাজের তৎকালীন বিভিন্ন ঘটনা। সাথে থাকে কিছু আলো এবং আরেক আকর্ষণ ছেলেদের মেয়ে সেজে বেড়োনো! তারা মেয়ে সেজে মাথায় কুলো ও বরণডালা নিয়েই পরিক্রমা করেন রাজপথ!যেন তারা বাড়ির বউদের মতোই জলসাজতে যাচ্ছেন!একবারে দেখে কেউ ধরতে পারবেন না তারা ছেলে নাকি মেয়ে! এই লুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি কে আজও ধরে রেখেছেন বড়োবাজার ব্যবসায়ী সমিতি।এর থেকে বোঝা যায় শান্তিপুর বাসীর ভাবনা ও হাস্যরসের কথা! যা শান্তিপুরের পক্ষেই সম্ভব। শান্তিপুরের অর্থনীতির অন্যতম ধারক শান্তিপুর বড়োবাজার। এই খানে সেঔ সমস্ত মূহুর্তের ছবি দেওয়া হলো!ভালো লাগলে শেয়ার করুনছবিগুলো দেখুন পূর্নরূপে।
আজ থেকে বহু বছর আগে বড়োবাজারের পাটের দোকান সহ আরো কিছু দোকানে বিধ্বংসী আগুন লাগলে শুরু হয় ব্রহ্মাদেবের পুজো আগামীকাল থেকে শুরু করে পাঁচদিন চলবে এই পুজো।পুজোর শেষে হবে শোভাযাত্রা সহ বিসর্জন।