বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু এক শ্রমিকের, শান্তিপুর থানা এলাকায় পৃথক দুটি আত্মহত্যা! শোকের ছায়া শান্তিপুরে

মলয় দে নদীয়া:-
প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনভিপ্রেত মৃত্যুর খবর পাওয়াই যায়। তবে আজ সকালেই পৃথক তিনটি মৃত্যুর কারণে শান্তিপুরের বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া।
প্রথমটি বাবলা পঞ্চায়েতের বাথনা এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৬ বছর বয়সী সুজয় দুর্লভ ছোট্ট একটি গেঞ্জি কারখানা তৈরি করেছিলেন বাড়িতেই। একান্নবর্তী পরিবারের দাদা মা বাবা বোন সকলেই পাশে থাকে নিজে নিজের ঘরে, তিনি সুতেন কারখানা ঘরে। গতকালকে আনুমানিক রাত তিনটা নাগাদ, সেলাই মেশিনের ইলেকট্রিকের তারে জড়িয়ে মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে, ভোর পাঁচটা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে, তাকে ডাকতে গেলে সাড়া পাওয়া যায় না। এরপর ওই ঘরের দরজা ভেঙে ইলেকট্রিক মেন সুইচ অফ করে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। মৃতদেহ ময়নাতদারদের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে বাবলা খাবড়াডাঙায়, সেখানে ৪০ বছর বয়সী কার্তিক সর্দার পিতা গুরুপদ সরদার, পার্শ্ববর্তী একটি আমবাগানে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এলাকা সূত্রে জানাযায়, তিনি দীর্ঘ কুড়ি বছর আগে বিবাহ করলেও সন্তান-সন্ততি হয় না আর এই নিয়েই স্ত্রীর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই সমস্যা তৈরি হতো, সম্প্রতি স্ত্রীর বিবাহিত একটি সম্পর্কের কথার জন্যও অশান্তি শুরু হয় তাদের মধ্যে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আত্মহত্যা হলেও হতে পারে এমনটাই মনে করছেন পরিবার। তবে গতকাল রাতে তিনি বাড়িতে ঢোকেননি, আজ ভোরে বাড়ির কিছুটা দূরে একটু আম বাগানে গলায় দড়ি দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা ফোন করে শান্তিপুর থানায়, এরপর উদ্ধার করা নিয়ে যায় ময়না তদন্তের জন্য।
তৃতীয় ঘটনাটি, শান্তিপুর শহরের কিনু মুন্সি লেনে , সেখানেও ৪০ বছর বয়সী সুদীপ্ত পোদ্দার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তার নিজের বাড়ির রান্নাঘরে। যদিও এলাকা সূত্রে জানা যায় তার পারিবারিক কোনো কলহ ছিল না। তিনি কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। তার স্ত্রী এবং একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে, সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে শান্তিপুর থানার পুলিশ।