বহু প্রাচীন শ্রী শ্রী মদনমোহন জিউ শান্তিপুর উড়িয়া গোস্বামী পাড়ার মহিলাদের উদ্যোগে আবারো ফিরছে সাবেকি রীতি, জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

বহু প্রাচীন শ্রী শ্রী মদনমোহন জিউ শান্তিপুর উড়িয়া গোস্বামী পাড়ার মহিলাদের উদ্যোগে আবারো ফিরছে সাবেকি রীতি, জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

মলয় দে নদীয়া :-সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে জন্মাষ্টমী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব । সনাতনী পঞ্জিকা মতে সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্যের সময় জন্মাষ্টমী পালিত হয় । এই উৎসবটি প্রত্যেক বছর আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় । দেবকী ও বাসুদেবের সন্তান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনটি কে সনাতনী রা জন্মাষ্টমী হিসাবে পালন করেন ।প্রাচীন পৌরাণিক উপাখ্যান অনুযায়ী জানা যায় শ্রী কৃষ্ণের নেতৃত্বে একদল বালকের ননী চুরির ঘটনা । সেই কারণেই বিভিন্ন মিষ্ঠান্যের মধ্যে ক্ষির মাখন কে কৃষ্ণের প্রধান একটি মিষ্ঠান্নের উপাদান হিসেবে ধরা হয় । যদিও নানাবিধ মিষ্ঠান্ন জন্মাষ্টমীর দিন নিবেদন করার রেওয়াজ রয়েছে । তার সাথে দেওয়া হয় নানা বিধ ফল । যদিও এটা অনেকেরই জানা বিভিন্ন প্রকার ফলের মধ্যে তালের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে । অর্থাৎ তালের বরাকে জন্মাষ্টমীর প্রধান উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে । যদিও একসময় তাল পড়ার শব্দ পেয়ে শ্রীকৃষ্ণের রাধা রানীর ঘুম ভেঙে গিয়েছিল । আবার বৃন্দাবনে কোনো তাল গাছ ছিল না বলেই জানা যাচ্ছে।
সাধারণ মানুষ শ্রী কৃষ্ণের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ভক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগীত, ধর্মীয় যাত্রা পালা প্রভৃতি উৎসবের আয়োজন করে থাকেন ।
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম তিথিতে মধ্যরাতে তার মূর্তিকে স্নান করিয়ে ,কাপড় দিয়ে মুছিয়ে দোলনায় সাজানোর রীতি রয়েছে । তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিষ্ণুর অবতার গুলির মধ্যে কৃষ্ণ অবতার মানব জাতির কর্তব্য কর্মের ব্যাপারে প্রথম শিক্ষা দেন । ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসমারোহে জন্মাষ্টমী পালিত হয় , এছাড়াও উত্তর পূর্ব ভারতে গোপালের পুজো , মহারাষ্ট্র ও তামিল নাড়ু তে হান্ডি উৎসব পালিত হয় । তবে বাংলার রীতিনীতি অনেকটাই আলাদা।
ধর্মপ্রাণ নদীয়ার শান্তিপুর অন্যতম, এ ধরনের রীতিনীতি পালনের। শান্তিপুরের উড়িয়া গোস্বামী পাড়ায় অবস্থিত বহু প্রাচীন শ্রী শ্রী মদনমোহন জিউ আর্থিক পরিস্থিতির কারণে এ ধরনের নানা অনুষ্ঠান অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছিলো। কিন্তু সেখানকার মহিলারা গত ছয় বছর ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আবারও সাবেকি রীতিনীতি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। আজ সকালে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় রাধা কৃষ্ণ, শ্রী শ্রীঅদ্বৈত আচার্য, গৌড় নিতাই এর জীবন্ত মডেলের মাধ্যমে নগর পরিক্রমায় বের হন। চন্দন যাত্রা, ননী চুরি, এ ধরনের নানা উপাচার তারা আবারও ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন বলেই জানিয়েছেন আমাদের।