বন্যা ত্রান দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড সুজাতা সাহা হাঁটাও তৃণমূল বাঁচাও”, ব্লক মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক পোস্টার এলাকায়, শোরগোল জেলা জুড়ে, সিএজি তদন্ত শুরু হওয়ার আগে অস্বস্তিতে তৃণমূল, প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরেই, সাফাই তৃণমূল নেত্রীর, খোঁচা বিজেপির

মালদা;তনুজ জৈন;১৮মে: বন্যা-ত্রাণ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে পোস্টারে ছয়লাপ এলাকা। বৃহস্পতিবার সকালে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রাতঃভ্রমণে ও বাজারে আসতেই নজরে আসে পোস্টার। কোনও পোস্টারে লেখা রয়েছে “সুজাতা সাহা হাটাও তৃণমূল বাঁচাও” আবার কোনও পোস্টারে লেখা রয়েছে “গ্রেপ্তারির দাবি”, কোন পোস্টারে লেখা রয়েছে নেত্রীর গ্রামে প্রবেশ নিষেধ, আবার কোন পোস্টারে লেখা রয়েছে অভিযুক্ত নেত্রীকে প্রার্থী করলে একটিও ভোট নয়। কে বা কারা এই পোস্টার দিয়েছে তা এখনো পরিষ্কার হয়নি। তবে এই নিয়ে সুর চড়িয়েছে খোদ তৃণমূলের বন ও ভূমি কর্মাধক্ষ্য।অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী সুজাতা সাহার দাবি এই ঘটনা সম্পূর্ন বিরোধীদের চক্রান্ত। বিরোধীদের হাত দেখছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারাও। সমগ্র ঘটনায় তৃণমূলকে একহাত নিয়েছে বিজেপি।মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে বন্যা-ত্রাণ দুর্নীতিতে সিএজি তদন্ত শুরু হওয়ার প্রাক্কালে শোরগোল এলাকা জুড়ে। বন্যা-ত্রাণ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত হরিশ্চন্দ্রপুর ১ (বি) ব্লক মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা সুজাতা সাহার বিরুদ্ধে পোস্টার পড়েছে তুলসিহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়োল এলাকায়। রাস্তা জুড়ে পড়েছে একাধিক পোস্টার।কোন পোস্টারে লেখা রয়েছে ,”সুজাতা সাহা হাটাও তৃণমূল বাঁচাও” আবার কোথাও ‘বন্যা ত্রাণ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড সুজাতা সাহা কে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে’, কোন পোস্টারে লেখা,’ দুর্নীতিবাজকে প্রার্থী করলে একটিও ভোট নয়,’ কোথাও আবার লেখা,’দুর্নীতিবাজ নেত্রী সুজাতা সাহার গ্রামে ঢোকা বারণ’।বৃহস্পতিবার সকালে এলাকার লোক প্রাতঃ ভ্রমণে বা বাজারে বেড়োলে নজরে আসে এই ধরনের একাধিক পোস্টার।যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রসঙ্গত ২০১৭ সালে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হয়।বন্যা দুর্গতদের জন্য আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।কিন্তু বন্যা-ত্রাণের টাকা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে শাসকদলের একাধিক নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতিতে ৩ কোটি ৫৪ লক্ষ এবং বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭৬ লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে।এই কাণ্ডে গ্রেপ্তার হয় শাসকদল পরিচালিত বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোনামনি সাহা সহ তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা-নেত্রী। কিন্তু এলাকাবাসী এবং বিরোধীদের অভিযোগ অনুযায়ী এই দুর্নীতি কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড সুজাতা সাহার গ্রেপ্তারির দাবি উঠে বারবার। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এমন একজনকে কি ভাবে তৃণমূল ব্লকের পদে বসালো তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে। কিছুদিন আগেই হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই দুর্নীতি নিয়ে শুরু হচ্ছে সিএজি তদন্ত। রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে আট সপ্তাহের মধ্যে। দলের অন্দরেও সুজাতা সাহার দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধক্ষ্য আদিত্য মিশ্র। এবার সুজাতা সাহার বিরুদ্ধে একাধিক পোস্টার। স্বাভাবিক ভাবে অস্বস্তি বাড়িয়েছে শাসকদলের।এই পোস্টারের পর দলের পক্ষ থেকে সুজাতা সাহার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে।যদিও সুজাতা সাহার মতে এটা বিজেপি এবং কংগ্রেসের চক্রান্ত।তাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা।মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেনও মনে করছেন এতে বিরোধীদের হাত থাকতে পারে।সাথে তিনি জানান স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সমগ্র ঘটনা খতিয়ে দেখবে।অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ নষ্যাৎ করেছে বিজেপি।উত্তর মালদা সংগঠনিক জেলা বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি অয়ন রায়ের মতে এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। যা নিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা।