মলয় দে নদীয়া :-
প্রধানমন্ত্রী গৃহ আবাস যোজনায় তালিকাভুক্ত গৃহের ছাদ বিহীন বহু প্রান্তিক পরিবার আবেদন করেছিলেন।
পরবর্তীকালে বাংলায় এই আবাস যোজনা নিয়ে নানান দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলো বিজেপি, সিপিআইএম , কংগ্রেস থেকে শুরু করে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই। তবে তা ছিলো রাজনৈতিক তরজা, এমনটাই মনে করতো শাসক দল তৃণমূল । কিন্তু পরবর্তীতে, বঞ্চিত মানুষদের বিক্ষোভ ডেপুটেশন সংবাদমাধ্যমে উঠে আসলে, স্বজন পোষন দুর্নীতি কিছুটা যে হয়েছে, তা মেনে ছিলেন নেতৃত্বও। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য প্রধান উপপ্রধান থেকে জেলা পরিষদ আবাসের দুর্নীতিমুক্ত তালিকাতে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি অনেকেই।
আর সেই কারণেই তৃণমূল সুপ্রিয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে যুব নেতৃত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া হুশিয়ারি দিয়েছিলেন, দলীয় স্তরে কোনরকম দুর্নীতির সাথে আপোষ না করার জন্য।
তবে এ ধরনের বহু ঘটনা সংবাদমাধ্যমে অতি সাধারণ খবর হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। কিন্তু সংখ্যায় অল্প হলেও নজিরবিহীন ঘটনা যে ঘটে না এমন কিন্তু নয়।
আমরা প্রতীক্ষায় ছিলাম সেই খবরের যেখানে থেকে আলোর দিশা দেখানো যায় এমন কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।
নদীয়ার শান্তিপুর এক নম্বর শান্তিপুর কলোনির বাসিন্দা অসিত সাহা পেশায় মুদি দোকানদার। কোনরকমে সংসার অতিবাহিত করেন। ছেলে অমিত সাহা, ছোটখাটো একটা কাপড়ের ব্যবসা করে। তাদের ছাদবিহীন ঘর বহু দিনের, আর সেই কারণেই আবেদন জানিয়েছিলেন আজ থেকে চার বছর আগে। বর্তমানে পৌরসভা অনুসন্ধান করে মঞ্জুর করেছে। শান্তিপুর শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি হওয়ার কারণে, তিনি তার বাবার নামে মঞ্জুর হওয়া ওই ঘর নিতে অস্বীকার করে শান্তিপুর পৌরসভায় লিখিত জানিয়েছেন। অমিত সাহা, এ প্রসঙ্গে বলেন, বাবার কাছে ছোট্ট একটা অনুরোধ ছিল বটে তবে এটা তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত। তিনি মনে করেন দলের প্রয়োজনে এর থেকেও কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলেও তিনি রাজি।
তবে পিতা অসিত সাহা, বলেন ছেলের ইচ্ছামতোই ওয়ার্ডের সমস্ত প্রান্তিক পরিবারের ঘর হয়ে যাওয়ার পর আগামীতে চিন্তা ভাবনা করে দেখা যাবে।
যদিও বিষয়টি নিয়ে, বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেছেন দলের বিপুল পরিমাণ ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের দু একটি নজিরবিহীন ঘটনা প্রকাশ্যে এনে শুদ্ধিকরণ চলছে। তবে শুভ চিন্তাভাবনার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারাও।
এ প্রসঙ্গে বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী বলেন, দলে এইরকম কর্মীরাই সম্পদ। তবে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা জনসমক্ষে উঠে আসলেও, এ ধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসেনা। তবে বিপুল পরিমাণ মানুষের আশা-ভরসা তৃণমূল কংগ্রেসের উপর, সর্বোপরি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর উপর, তার কারণই হল এই দলে আনুগত্য এবং শৃঙ্খলা।

