মলয় দে নদীয়া :-পাটের বীজ কিনে সেই বীজ বোনার সময় মার্চের শেষের দিকে। যদিও গত দুদিনের বৃষ্টিতে জলের অভাব অনেকটাই মিটে যাওয়ায় পাট চাষীরা একটু আগেই পাট বীজ বোনার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। আর তাই, নদীয়ার শান্তিপুর কোঅপারেটিভ এগ্রিল মার্কেটিং সোসাইটি লিমিটেডের কাউন্টার থেকে বীজ কেনার জন্য চাষীদের লম্বা লাইন পড়ছে গত তিনদিন যাবৎ। বাজার থেকে বেশ অনেকটাই কম দামে উন্নত মানের এখান থেকে পাটের বীজ কেনার জন্য চাষীদের ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। শান্তিপুরের ১৯টি সমবায়ের প্রধান কেন্দ্র শান্তিপুর কোঅপারেটিভ এগ্রিল মার্কেটিং সোসাইটির কাউন্টার থেকে শান্তিপুর ব্লকের বিভিন্ন জায়গার চাষিরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাটের বীজের জন্য ভিড় করছেন। অথচ প্রয়োজনের তুলনায় যথা সামান্য সাপ্লাই হওয়ার কারণে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককেই।
লক্ষীকান্তপুরের চাষী পবন প্রামাণিক, সাহেব ডাঙ্গার চাষী মতিয়ার মল্লিক, ফুলিয়ার চাষী অনিল বিশ্বাসরা তাদের জমিতে পাট চাষের জন্য কম দামে ভালো বীজ কেনার জন্য এখানে ভিড় করছেন। তাদের বক্তব্য,’গত দুদিনের বৃষ্টিতে এবার চাষের ক্ষেত্রে ক্ষতি তো দূরের কথা,বরং লাভই হয়েছে। কেবল তিল চাষ ছাড়া ধান,পাট, আম এবং অন্যান্য চাষের ক্ষেত্রে সুবিধা হয়েছে বৃষ্টিতে। সাধারণত মার্চের শেষের দিকেই পাটের বীজ বোনা হয়ে থাকে। তবে বৃষ্টির জন্য জল পাওয়া সুবিধা হয়ে যাওয়াই অনেক চাষী চাইছেন,একটু আগেই পাটের বীজ বুনে ফেলতে। তাই আমাদের মত অনেকেই এই সোসাইটি থেকে কম দামে ভালো বীজ কেনার জন্য ভিড় করছেন। যদিও চাহিদা মত পাটের বীজ আমরা সেইভাবে পাচ্ছি না। কবে আমরা চাহিদা মত সেই বীজ পাব,তা জানিনা।’যদিও ওই সোসাইটির ম্যানেজার বিষ্ণুপদ সরকার জানিয়েছেন,’জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে পাটের বীজ আমাদের কাছে পাঠানো হয় অগ্রিম অর্ডারের ভিত্তিতে। সেই তালিকা আজ থেকে প্রায় ১০ দিন আগে দিয়ে রাখলেও, অজানা কোন কারনে পাটের বীজ এখনো এসে পৌঁছায়নি। কিন্তু আমাদের এখান থেকে পাটের বীজ কিনে যেহেতু চাষিরা ভালো ফলন পেয়েছেন,সেই কারণেই চাষিরা আমাদের এখান থেকে বীজ নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন। তাছাড়া বাজার থেকে আমাদের এখানে পাটের বীজের দাম প্রায় কেজিতে ১০-২০ টাকা কম। কিন্তু আমাদের যে পরিমাণ পাটের বীজের দরকার,সেই পরিমাণ পাটের বীজ এখনো এসে পৌঁছায়নি। বাধ্য হয়ে আমাদের বাইরে থেকে বীজ কিনে চাষীদের যোগান দিতে হচ্ছে। আশা করছি ,জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই পাটের বীজ পাঠানো হবে। তখন চাষীদের হাতে তা তুলে দেওয়া সম্ভব হবে তাদের চাহিদা মত।’
তবে বেশ কিছু কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেল অনেকে এই সময় পাট না বুনলেও, হিড়িকে পড়ে তা সংগ্রহ করে রাখছেন। তবে তাদের দুঃখের বিষয় একটি, কমার্শিয়াল ভাবে বর্তমানে বীজ পাওয়া গেলেও সাবসিটির বীজ মেলে অনেক দেরিতে, যেখানে প্রয়োজন প্রায় থাকে না বললেই চলে।
যদিও এই বিষয়ে শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সুব্রত সরকার সমস্যার কথা রাজ্য কৃষি দপ্তরের সহায়তায় সমাধান করবেন বলেই জানিয়েছেন।

