নদিয়া শান্তিপুরে ক্রেতা এবং কৃষকের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে জৈব সার, দেশী বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে বিগত তিন বছর ধরে সবুজ বিপ্লবের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কৃষাণ স্বরাজ সমিতি

মলয় দে নদীয়া :- জৈব চাষের মাধ্যমেই মেলে বিষমুক্ত খাবার। শুধু তাই নয়, জৈব চাষের খরচ রাসায়নিক সারের থেকে অনেক কম।জৈব চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজি খেলে শরীরে তৈরি হয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। জৈব চাষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত নদীয়ার শান্তিপুরের কিষান স্বরাজ সমিতির সঙ্গে যুক্ত চাষী শৈলেন চন্ডী এমনই দাবি করলেন। ভারত সরকারের কৃষি মন্ত্রক প্রদত্ত ‘ উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ’ পুরস্কারপ্রাপ্ত চাষী শৈলেন চন্ডী ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন চাষীকে নিয়ে বিষ মুক্ত খাদ্য বাজার তৈরি করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কিষান স্বরাজ সমিতির সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২৫ জন শান্তিপুরের হরিপুর, বাগআঁচড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় গত তিন বছর ধরে নিয়মিত জৈব চাষ করে যাচ্ছেন। শৈলেন বাবু জানিয়েছেন,’ ধান চাষের ক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে ফলন হয়তো একটু বেশি হয় ঠিকই, কিন্তু জমির উর্বরতা ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। তাছাড়া রাসায়নিক সার প্রয়োগের খরচ অনেক বেশি। তবে দেশীয় জাতের ধান জৈব চাষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলে ফলন কিন্তু কম হয় না। পটল, ঝিঙে, বেগুনসহ একাধিক সবজি আমরা জৈব চাষের মাধ্যমে উৎপাদন করছি।’ যদিও বহু বছর ধরে রাসায়নিক সার ব্যবহার করার পরে জমিতে জৈব চাষ শুরু করার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হয় কিনা, সেই প্রসঙ্গে শৈলেন বাবু বক্তব্য,’ গোবর সার, খোল প্রয়োগ করে দীর্ঘদিন ধরেই মাটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে আর কোন সমস্যা নেই। গাছে কীটনাশক হিসাবে আমরা মূলত নিম তেল ব্যবহার করে থাকি। এছাড়া লঙ্কা ও বেগুন গাছ কুঁকড়ে গেলে, গোচনা স্প্রে করলে কিছুটা কাজ হয়। জৈব চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসল কেনার জন্য ইতিমধ্যেই আমাদের বেশ কয়েকজন ক্রেতা তৈরি হয়ে গিয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই বিষমুক্ত খাবার খাচ্ছেন। আমাদের সংগঠনের মত যদি আরো বেশ কিছু সংগঠন জৈব চাষ করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে, তাহলে চাষি এবং ক্রেতা, উভয়পক্ষের সুবিধা হয়।’ সেক্ষেত্রে জৈব চাষের প্রশিক্ষনের জন্য নদিয়ার করিমপুর দু’নম্বর ব্লক ও হাঁসখালি ব্লকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে শৈলেন বাবু জানিয়েছেন।তিনি এও দাবি করেছেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে জৈব সারের মাধ্যমে উৎপাদিত বিষমুক্ত খাবার খেলে মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ