মলয় দে নদিয়া:- ব্যাঙ্গালোরে সেন্টারিং এর কাজ করতেন নদিয়ার নবদ্বীপের ইদ্রাকপুরের বাসিন্দা বুদ্ধদেব ঘোষ। বাড়ির সকলে নদিয়ায় থাকলেও সে কাজের সুবাদে ব্যাঙ্গালোরেই থাকতেন এবং বছরে বেশ কয়েকবার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। সকলের মত তিনি ও তার এক বন্ধু বাড়িতে আসার জন্য ব্যাঙ্গালোর থেকে হামসফর এক্সপ্রেসের আনরিজার্ভড টিকিট কেটে উঠেছিলেন কামরাতে। তখনও বুঝতে পারেননি সামনে ভয়ংকর বিপদ দাঁড়িয়ে রয়েছে তাদের।
ওই যুবক জানান, “বালেশ্বরের কাছাকাছি হঠাৎই ট্রেনে আচমকা বিকট শব্দ করে দাঁড়িয়ে যায় এবং কামরা পুরোপুরি পাল্টি খায়। সঙ্গে সঙ্গে কামরার সমস্ত লাইট বন্ধ হয়ে অন্ধকার হয়ে যায়। আমরা কোনরকমই কামরা থেকে বের হই। তারপরেই দেখি সেই ভয়াবহ দৃশ্য! কেউ চাপা পড়ে রয়েছেন কামরার নিচে, কেউ যন্ত্রণায় রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছেন, আমার এবং আমার সঙ্গে থাকা বন্ধুর খানিকটা চোট লাগলেও আমরা সামলে উঠে কিছুক্ষণ এক জায়গায় বসে তারপর নিজেদের ব্যাগ পত্র খুঁজে কোনো রকমে বাসস্ট্যান্ডে আসি। সেখান থেকে বাস ধরে হাওড়া স্টেশনে নেমে হাওড়া স্টেশন থেকে লোকাল ট্রেন ধরে চলে আসি বাড়িতে। আমার বন্ধুটি যদিও বাড়ি আসতে পারেনি সে শিয়ালদহ তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে করমন্ডল এক্সপ্রেস এবং হামসফর এক্সপ্রেসের মুখোমুখি দুর্ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর এবং আহত ৬০০ জনেরও বেশি। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘটনাস্থল নিদর্শনে গিয়েছেন।

