দু’বছর আগের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতো হয়ে গেছে ছোটো, স্বল্প সময়ে স্কুল খোলার সরকারি নির্দেশে জামা জুতোর দোকান পুজোর চেহারা নিয়েছে
মলয় দে নদীয়া:- শরতের প্রারম্ভে নয়, শীতের শেষে আবারো পুজোর গন্ধ আকাশে বাতাসে। নতুন জামা জুতো কেনার হিড়িক লেগেছে দোকান গুলোতে। বিদ্যার দেবী সরস্বতীর বিসর্জনের পরে ধাপে ধাপে খুলেছে স্কুল। প্রথমে অষ্টম থেকে দ্বাদশ, পরবর্তীতে প্রাথমিক থেকে সপ্তম, অবশেষে প্রাক-প্রাথমিক। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে খুলছে সমস্ত সরকারি-বেসরকারি ইংরেজি হিন্দি বাংলা মাধ্যমমের স্কুল।
গত দু’বছর আগে যারা বীণাপাণির কাছে হাতেখড়ি নিয়ে ভর্তি হয়েছিলো বিদ্যার মন্দিরে। তারা অনেকেই শিক্ষালয়ে শৈশব উপভোগ করার আগেই করোনা দৈত্যের তাণ্ডবে গৃহবন্দি হয়েছিলো। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনলাইন ক্লাস দিলেও, সহপাঠীদের সাথে মজা এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদের স্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলো।
স্বল্প সময়ে সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যালয় যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল জুতোর দোকানের ক্ষনিকের মধ্যেই নিমেষে নিঃশেষিত হয়েছিলো স্কুলের জুতো কেডস। দোকানিরা জানান লকডাউন এর কারণে বন্ধ ছিল কল কারখানা, যোগাযোগের ব্যবস্থাও অন্যদিকে ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল না কোনো তাই অনেককেই দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিছুটা দাম বাড়লেও কিছুদিন সময় ছাড়া খুদেদের খুশি করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ইউনিফর্ম সকলেরই হয়ে গিয়েছে ছোটো, বাড়ন্ত এই শৈশবে দু’বছর তো আর মুখের কথা নয়! ফলে তড়িঘড়ি , লাইন পড়েছে টেইলারিং দোকান গুলোতে। দোকানদারেরা জানান, রেডিমেডের এর দাপটে এমনিতেই ব্যবসায় চলছিল মন্দা তার উপর লকডাউন। বিদ্যালয় গুলি খোলার ফলে খুশি, তবে কিছুদিন সময় ছাড়া খুশি করতে পারছিনা পড়ুয়াদের।
তবে খুদে পড়ুয়ারা কিন্তু ইউনিফর্ম জুতো ছাড়াই প্রস্তুত বিদ্যালয় যাওয়ার জন্য। অনলাইন ক্লাসে কে কার পাশে বসবে, তাও নাকি ঠিক হয়ে গেছে। বন্ধুদের নাম মনে থাকলেও, মুখটা মনে পড়ছে ডিজিটাল ভাবে। নির্ভেজাল শিশুমনে সশরীরে খুনসুটি মারামারি ভালোবাসা স্পর্শ গন্ধ সবটাই পাওয়ার প্রতীক্ষায়।
অভিভাবকরা খুশি হলেও অনেকেই মনে করেন অনেক আগেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিলো। হঠাৎ ঘোষণার ফলে, অনিশ্চিত বিদ্যালয় খোলার স্বপ্নভঙ্গ হওয়া জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে বেশ কিছুদিন। দুশ্চিন্তা একটাই, ধারাবাহিকতা বজায় থাকার।

