চেয়ার ছাড়াই শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান দর্শকাসনে মাটিতে বসে দেখলেন ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনয়
মলয় দে নদীয়া:-
শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ঘর পরিণত হয়েছে প্রেক্ষাগৃহে। মঞ্চস্থ হচ্ছে বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে একটি নাটক। ওই স্কুলের অপর একটি ঘরে চলা পাড়ায় সমাধানে এসে প্রচন্ড অনেকেই চড়া রোদ থেকে একটু বিশ্রাম নেওয়ার সাথে এক মনে দেখছিলেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনয়। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো, অন্যকে বিব্রত না করে মাথা নিচু করে ঢুকলেন শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ ভাইস-চেয়ারম্যান কৌশিক প্রামানিক। শান্তিপুর পৌরসভা আয়োজক হলেও বিষয়টি হয়তো খেয়াল করিনি কেউই, দর্শকের ভিড়ের মাঝে মাটিতেই বসে পড়লেন চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান সেই দেখা দেখি মাটিতেই বসে পড়লেন বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরও। কয়েক মিনিট পরেই সারা শান্তিপুরের দায়িত্ব সামলাতে দুটি মানুষের মুখের অভিব্যক্তি ছিলো আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতই। মঞ্চে যখন জোর করে নাবালিকার বিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সিক্ত হচ্ছে চোখের কোণ, আবার পুলিশ এসে যখন বিয়ে ভন্ডুল করে দিচ্ছে উত্তেজনাবশত সকলের সাথে মিলে যাচ্ছে তাদেরও করতালি। হঠাৎ ঘোর কাটলো ঘোষকের ঘোষণায়। মাইকে তিনি বলে উঠলেন আমাদের মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ ভাইস চেয়ারম্যান কৌশিক প্রামানিক সিএসসি মেম্বার শুভজিৎ দে কাউন্সিলর অরুন বাসাক প্রসেনজিৎ দাস স্নিগ্ধা ব্যানার্জি,। পাশে বসে থাকা অভিভাবকরা হতবাক হয়ে একে অন্যের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলেন। হয়তো ভাবছিলেন কখন যে চুপিসারে তাদেরই পাশে এসে বসেছেন যে কোন অনুষ্ঠানে স্টেজে প্রধান আসন অলংকৃত করা পৌরসভার দুই গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী এবং তাদের সহযোগীরা। শরৎকুমারী গার্লস, সূত্রাকার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছে রাজ্য সরকারের 11 বছরের সাফল্যের ছবি, কেউ বেঁধেছে গান, কেউবা আবৃত্তি করে শোনালো লক্ষীর ভান্ডারের সুফল, কেউবা অভিনয়ের মাধ্যমে সবুজ সাথীর সাইকেল চড়ে বিদ্যালয়ে এসে কন্যাশ্রীর টাকা পেয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার অভিনয় করে দেখানোর পর শপথ নিলো পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। নৃত্যের মাধ্যমে কেউ তুলে ধরলো, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে এসে সাধারন মানুষ কিভাবে রয়েছে খুশিতে। ভাইস চেয়ারম্যান কৌশিক প্রামানিক জানালেন, কিছুক্ষণের জন্য অন্য জগতে চলে গেছিলাম, কি অসাধারণ অভিনয় নৃত্য আবৃত্তি ভঙ্গিমা। সেই কারণেই হয়তো শান্তিপুর সংস্কৃতির পীঠস্থান। সেই পরম্পরা ধরে রেখেছে ওরা।’ চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ জানালেন
এই কারণেই বেছে নেওয়া হয়েছিলো বিদ্যালয় গুলি, দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে ওদের মনোরঞ্জন হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের উপলব্ধির মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মাঝে সরকারি প্রকল্পধীন হওয়ার বার্তা পৌঁছাবে খুব সহজে। শান্তিপুর সাজঘর সংস্কৃতিক রঙ্গপীঠ এইরকম বেশকিছু নাট্য সংস্থা, গুণী অংকন শিক্ষক, আবৃত্তি এবং নৃত্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শ্রদ্ধা জানাই পৌরসভার এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য, গর্বিত ক্ষুদে শিল্পীদের জন্য। রাজ্য সরকারের 11 বছরের সাফল্য অনুষ্ঠান এইভাবে পরিকল্পনার জন্যই পূর্ণ সফলতা পেয়েছে।

