মলয় দে নদীয়া:- ভাঙা ঘর, আর অভাব কে সাথে নিয়ে, গত ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করেও মানুষের ভরসায় বাবলা ডিঙ্গিপোতা এলাকা থেকে বিজেপি মেম্বার হয়েছিলেন, টুম্পা সরকার মাঝি।
শুধু তাই নয়, তিনি বাবলা পঞ্চায়েতের আর পাঁচ জন বিরোধী সদস্যদের মনোনয়নে হয়েছিলেন বিরোধী দলনেত্রী।
তবে টুম্পা দেবীর কথায় তা ছিল নিছকই , একটি পদ। সরকারি কোন প্রকল্প তার হাত দিয়ে এলাকায় এসে পৌঁছাতো না, যেটুকু আসতো সবই তৃণমূলের দলীয় কর্মী সমর্থকদের হাত দিয়ে। এমনকি তৃণমূলের তরফ এলাকায় টাকা তোলা হয়েছে , প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে।
কিন্তু সব জেনেও, আরো শক্তিশালী সংগঠন তৈরীর প্রতীক্ষায় ছিলেন তিনি। আজ ভারতীয় জনতা পার্টি তাকে জেলা পরিষদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মানুষের সম্মুখে তুলে ধরেছেন প্রার্থী হিসেবে। তবে তিনি আশাবাদী ১০০% জয়ের। তিনি বলেন গতবার নমিনেশন জমা থেকে শুরু করে , প্রচারে বাধা, ভোট লুট এমনকি সার্টিফিকেট প্রদানেও নানান দুষ্কর্ম সকলেরই জানা। আর এত কিছু প্রতিকূলতার মধ্যে, যখন মানুষ আমাকে বিশ্বাস ভরসা করেছে, তখন এবারে নদিয়া দক্ষিনে সাত বিধায়ক এক সাংসদ থাকার ফলে জয় লাভ অনেকটাই সহজ। ২০১৮ সালের বিজেপি আর ২০২৩ সালের বিজেপির মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য। শাসক দল হওয়ার কারণে , তৃণমূলের বিরুদ্ধে
বাবলা পঞ্চায়েতের
নানান দুর্নীতী, স্বজন পোষণ জেনেও আমরা বিরোধী সদস্যরা যেখানে মুখ খুলতে পারেনি সেখানে সাধারণ মানুষ কিভাবে প্রতিবাদ করবে! তবে তাদের প্রতিবাদের ভাষাই হল ভোট দান, যা আর কিছুদিনের মধ্যেই জানা যাবে।
স্বামী সত্যেন সামান্য ডেটা অপরেটিংএর কাজ করেন। বৃদ্ধ বাবা মা এবং ছোট ছোট দুই ছেলে মেয়েকে বাড়িতে রেখে, তার নির্বাচনক্ষেত্রে দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নেতা-নেত্রীদের উপস্থিতিতে প্রচার চালাচ্ছেন সারাদিনব্যাপী । আজ সকালে, গ্রাম সাভার বিজেপি প্রার্থী রিনা চক্রবর্তী, পম্পা বাগ বিশ্বাস সমিতির অমল সরকারকে নিয়ে এলাকাতেই প্রচারে বের হন তিনি। এরপর বেলঘড়িয়া ১ নম্বর অঞ্চল, এবং কদমপুর বাথনা,এলাকায় বাড়ি বাড়ি পৌছাবেন সেখানকার বিজেপির গ্রাম সভা পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থীদের নিয়ে। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সভা করে তবেই ফিরবেন।
পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অমল সরকার বলেন, এই এলাকার রাস্তাঘাট আলো লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, বিরোধীদের গ্রামসংসদ এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোন কাজ হতে দেয়নি, তৃণমূল পরিচালিত বাবলা পঞ্চায়েত বোর্ড। তবে ভারতীয় জনতা পার্টির নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজেপির সদস্যা হয়েও টুম্পা সরকার মাঝির বাড়ি এখনো ছাদ বিহীন।

