মলয় দে নদীয়া :-
শান্তিপুর শহরের ২৩ এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আজাদ পল্লী এবং পশ্চিম কারিকর পাড়ার বিবাদ বহুদিনের। পশ্চিম কারিগর পাড়ার এলাকাবাসীর দাবি ওই অঞ্চলে লো ভোল্টেজের কারণে তাঁতেরকাজ এবং ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। সেই মর্মে তারা ইলেকট্রিক সাপ্লাই অফিস, শান্তিপুর পৌরসভাকে জানিয়ে অবশেষে একটি ট্রান্সফরমার বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে । সম্প্রতি কয়েকদিন আগে পোল বসাতে এসে, আজাদ পল্লীর কয়েকজন যুবকের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয় কাজ যদিও কাউন্সিলর বুলা কারিগর তা নিষ্পত্তি ঘটায় শান্তিপুর থানার সহযোগিতায়। আজ পুনরায় ট্রান্সফরমা বসাতে আসলে বাধা দেয় এলাকার বেশ কিছু যুবক। তাদের দাবি ছিল খোলা তার নয়, কবার দেওয়া তার ব্যবহৃত হোক ১১ হাজার ভোল্ট কারেন্ট টানতে। যেহেতু, পাড়ার একমাত্র মাঠের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রিক ডাক্তার যাচ্ছে এবং ওই মাঠে সমস্ত ধরনের খেলাধুলা করে বাচ্চারা।
সে কথা শোনে না, কাউন্সিলর থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন।
দুই পাড়ার বচসায় দীর্ঘ দু’ঘণ্টা কাজ বন্ধ রাখে ইলেকট্রিক সাপ্লাইয়ের কর্মীরা।
দুই পাড়ার মধ্যে রণক্ষেত্র পরিণত হয় ঘটনাস্থলে খবর পেয়ে আসে, শান্তিপুর থানার পুলিশ।এরপর পুলিশের সক্রিয়তায়, পুনরায় বিদ্যুৎ কর্মীরা কাজ শুরু করে। তবে ট্রান্সফরমার বসবে আগামীকাল। আজাদ পল্লীর
বাসিন্দাদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বুলা কারিগর , পক্ষপাতিত্ব করছে। কিন্তু তাদের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাজাহান শেখ, পুরসভা সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যস্ত থাকায় বেশ কয়েকবার ফোন তোলেননি।
ইতি মধ্যে পার্শ্ববর্তী ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং তাকে মদত দেওয়া রাজু চক্রবর্তীর নেতৃত্বে, পুলিশ লাঠিচার্জ করে ওই এলাকার বেশ কিছু মানুষের ওপর।
ঘটনার উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও এক ভ্যানচালক হঠাৎ মার খান পুলিশের হাতে। মহিলারা বলেন তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে, এবং তাদেরকে এমনভাবে তাড়া করা হয় কোলে বাচ্চা নিয়ে অনেকে পড়েও গেছেন।
পরবর্তীতে তাদের কাউন্সিলর শাজাহান শেখ এসে, জানান সে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা মেনে নেওয়ার জন্য। যদিও এই ঘটনায় মর্মাহত ওই এলাকার ২০০ পরিবার। তারা বলেন বিগত নির্বাচনে, যে কাউন্সিলরকে জয়ী করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম তারা করেছেন আজ তার, উদাসীনতা দেখে তারা সিদ্ধান্ত নেন, সিপিআইএম এ যোগদান করার।
শান্তিপুর এরিয়া কমিটির সম্পাদক সঞ্জিত ঘোষ কে তারা ডাকেন, যোগদানের জন্য। এলাকাবাসীর দাবি,সন্ধ্যাতেও , এই সভা বানচাল করার চক্রান্ত করার জন্য দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। যদিও শেষমেষ মোবাইলে ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে, চলে যোগদান প্রক্রিয়া। এ প্রসঙ্গে সিপিআইএম নেতৃত্ব সঞ্জিত ঘোষ বলেন, এই এলাকায় তাদের অতীতের সংগঠন প্রায় ছিল না বললেই চলে, তবে মানুষের সাথে কথা বললেই সমস্যার সমাধান হতো কিন্তু, যে মানুষের ভোট নিয়ে কাউন্সিলর হয়েছেন তাদের মানবতা না দেওয়ার ফলেই ক্ষোভের সৃষ্টি, এবং যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তারা। আগামী দিন, কভার তার লাগানো, এবং সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন চলবে মানুষকে সাথে নিয়ে।
অন্যদিকে কাউন্সিলর শাজাহান শেখ কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এরকম ঘটনা আগেও বহুবার হয়েছে, তবে তিনি আশাবাদী আগামী দিনে আবারও তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করবে ওই এলাকার মানুষজন। তবে পুলিশের অত্যাচার আরো হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। ওই এলাকার মানুষজনকে পুরসভার চেয়ারম্যানের সাথে যেখানে থানা এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল হয়েছিলো ,সেখানে তারা কেউই উপস্থিত না থেকে আরো সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছিলো। তবে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে তিনিও খোলা তারের বদলে কভার লাগানো তার লাগানোর অনুরোধ জানাবেন বিদ্যুৎ দপ্তর এবং পুরসভাকেও , এমনটাই জানিয়েছেন আমাদের ।
যদিও থানা সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কাজ আটকানোর জন্য জমা হওয়া মানুষজনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট ছোঁড়া হয়, তবে তাদেরকে তাড়া করা হয় কিন্তু, কাউকেই মারধর করা হয়নি।

