মলয় দে নদীয়া :-একের পর এক সাফল্য নদীয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে।
সম্প্রতি প্রসূতি মাকে সুস্থ রেখেই দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট জরায়ু থেকে দুই সুস্থ সন্তান প্রসব করানোর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিলো শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট ডক্টর পবিত্র ব্যাপারীর কৃতকর্মে।
তার আগে এবং পরেও বেশ কিছু বেনজির সফল অস্ত্রপ্রচার ঘটে তার হাতেই।
তবে এবার একটু অন্য ধরনের, একটা সময় পর্যন্ত সিজারিয়ান পদ্ধতিতে ডেলিভারি নিয়ে আতঙ্ক ও ভুল ধারণা ছিল। এখন তা অনেকটাই স্বাভাবিক,
চিকিৎসা বিজ্ঞানে একই প্রসূতি মায়ের দুবার সিজারিয়ান ডেলিভারি স্বাভাবিক বিষয় হলেও তিনবার কখনোই নয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে একবার সিজার হলে, পরবর্তীতে সিজারে ডেলিভারির আশঙ্কা বাড়ে। প্রথম বাচ্চা সিজারে ডেলিভারি হওয়ার পর, পরেরটার নরমাল ডেলিভারি হওয়ার আশঙ্কা কমে।
সিজারের ক্ষেত্রে মায়ের রক্ত নিতে হয়। রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়ে। সব থেকে বড় বিপদ হচ্ছে, গর্ভফুল। জরায়ুর মুখের দিকে বাচ্চা থাকে। জরায়ুতে ফুল থাকে। যখন সিজার করা হয়, তখন দেখা যায় কাটা জায়গাটায় ফুলটা বসে। মুহূর্তের মধ্যে অনেক রক্ত বের হয় মায়ের। তখন মাকে বাঁচানোর অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়।
অনেক ক্ষেত্রেই মায়ের আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সেবার প্রয়োজন হয়। অনেকেই ফিরে আসেন না আইসিইউ থেকে।
তাই চিকিৎসকেরা দুই বারের বেশি সিজারে যেতে নিরুৎসাহিত করেন। তবে সর্বোচ্চ তিনবার, এর বেশি কোনভাবেই নিরাপদ নয়। তিনবার সিজারের পর চতুর্থবার গর্ভধারণে বেশকিছু জটিলতা দেয়। এমনকি হতে পারে গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুও। যা জানেন না অনেক নারীই।
তবে নদীয়ার পলাশী পাড়ার বাসিন্দা জয়দেব দাস তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী অসীমা দাস কে নিয়ে ডক্টর পবিত্র ব্যাপারি কে দেখান আজ থেকে ৬ মাস আগে। তখনই ডাক্তারবাবু জানতে পারেন ইতিমধ্যেই তার তিনবার সিজার হয়েছে, এবং সেই সুবাদে তার দশ বছরের এবং ছয় বছরের দুটি কন্যাও রয়েছে। তৃতীয়বার একটি সন্তান মারা যায়। অবশেষে হয়তো পুত্র সন্তানের আশায় চতুর্থবার গর্ভধারণ করেন ওই দম্পতি।
বিষয়টি বেশ জটিল জেনেও, যেহেতু ছয় মাস পার হয়ে গেছে তাই ডক্টর ব্যাপারী চিকিৎসা শুরু করেন। অত্যন্ত অভাবী পরিবার হওয়ার কারণে তিনি শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন।
আজ সেই চতুর্থবারের সফল অস্ত্রপ্রচারের ফলে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান। নবজাতকের ওজন এবং শারীরিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক মাও রয়েছেন সুস্থ। পরিবারের পক্ষ থেকে ডাক্তারবাবু এবং সরকারি হাসপাতালে প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সমগ্র হাসপাতালের ডাক্তার নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সফলতার উচ্ছ্বাস। ডক্টর ব্যাপারী এ ব্যাপারে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার সফলতা বলে জানান। সর্বোপরি সুপারেন্টেন্ড ডক্টর তারক বর্মনের অনুমতির ফলেই এই দুঃসাধ্য সাধন হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে তিনি উষ্মা প্রকাশ করেন, এর আগে দুবার কৃষ্ণনগরে এবং একবার চাপড়ায় সিজার হলেও লাইগেশন না করা নিয়ে।
তবে পরিবারের সম্মতিক্রমে এবারে তিনি লাইগেশন করে দেন।

