মলয় দে নদিয়া :-বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতি ঐতিহ্যে জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন জাতি ধর্ম বর্ণের মেলবন্ধনের নানান কাহিনী। তাইতো বিবিধেরর মাঝে মিলন মহান।
নদীয়ার শান্তিপুর শহরেও বহু প্রাচীন নৃত্য কালী মাতা প্রতিষ্ঠার রয়েছে এই রকমই এক ঘটনা।
সে সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনস্থ শান্তিপুরের অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত এলাকা মতিগঞ্জ মোড় বেজপাড়া এলাকায় বেশ কিছু মানুষজন কাজ করতেন। তারা ছুটি পেতেন, গুড ফ্রাই ডে তে । দুর্গা পুজো কালীপুজোর রাসের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকতে হতো মাঝেমধ্যেই। এলাকার প্রবীনদের শোনা কথা অনুযায়ী সেই সময়কার , বেশ কিছু ব্যক্তি এই পুজোর সূচনা করেন।
বেজ পাড়ার বহু প্রাচীন পূজো নৃত্যকালী মাতা। কবে থেকে এই পূজো শুরু সঠিক ভাবে জানা যায় না। অনেক আগে এই পূজো ১২ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হতো, তখন যাত্রাগান, মহিষবলি এই পূজোর অঙ্গ হিসেব থাকিত। কথিত আছে ১৩ কোপে একবার মহিষবলি হওয়ায়, মহিষবলি বন্ধ করে ছাগবলি রাখা হয়।
১৯৩৩ সাল থেকে রজনীকান্ত মৈত্র মহাশয়ের ইচ্ছায় ও উৎসাহে নৃত্যকালী মাতা প্রতি বছর গুডফ্রাইডের আগে মঙ্গলবার পূজো শুরু হয় এবং রবিবারে বিসর্জন ও নীরঞ্জন হয়ে থাকে। মঙ্গল থেকে শনিবার পাঁচ দিনই মাকে ভোগ নীবেদন করা হয়। পূর্বে এই পূজোয় দর্শকদের ছানাসন্দেশ জলখাবার দেওয়া হত। প্রায় ৪০ বছর আগে এই পূজোয় ছাগবলিও বন্ধ হয়ে যায়। সাধারন মানুষের চাঁদার ওপর নির্ভর করেই এই পূজো অনুষ্ঠিত হয়।
শোনাযায় জমিদার মতি বাবু এখানে স্বয়ং যাত্রায় অভিনয় করতেন। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরবর্তীতে যাত্রাপালা ভাড়া করে নিয়ে আসতো পাড়ার ছেলেরা। তবে তারও পরবর্তী সময়ে পাড়ার ছেলেরাই অভিনয় করত। মহিলা চরিত্রের সমস্যার কারণে এখনও পুুরনো রীতি মেনে যাত্রার মঞ্চ তৈরী করে রাখা থাকলেও সেখানে পাড়ার ছেলেমেয়েদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় পুজোর এই পাঁচ দিন যাবত।
কালিপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায় বহুকাল এই পূজোর প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন পরবর্তী সময়ে নিতাই গোস্বামী মহাশয়ও দীর্ঘদিন দায়িত্ব নিয়ে এই পূজো পরিচালনা করেছেন। এই এলাকায় অনেক পূজো থাকলেও এলাকার মানুষদের প্রচন্ড আবেগ এই নৃত্যকালী পূজো নিয়ে।
আর এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, ভোগ রন্ধনের জন্য মাটির তৈরি উনুনে কাঠের জ্বালে আজও সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন এলাকাবাসী।
সমগ্র এলাকাটি সন্ধ্যের পর আলোকসজ্জা সজ্জিত হওয়া এবং মেলা বসে সমগ্র শান্তিপুর বাসীর কাছে তা আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

