আবারো প্রধানমন্ত্রী আবাসন বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শহর পোস্টারময় হলো নদীয়ার শান্তিপুর

মলয় দে নদীয়া:-আমফানের দুর্নীতি হোক বা গৃহ আবাসন প্রকল্প , দলবদল, বা স্বজনপোষণ সমস্ত অভিমান পোস্টার এর মাধ্যমে ব্যক্ত করতে দেখা গেছে এর আগে বহুবার। বিরোধী হোক বা দলের দলের একাংশ , কখনো নামবিহীন পোস্টার ! বিগত দিনের নিরিখে, নদীয়া জেলার অন্যতম এলাকা পোস্টার এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে শান্তিপুরের গ্রাম শহর।
আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায়, এ ফোর সাইজের পৃষ্ঠায় কম্পিউটার প্রিন্ট করানো পোস্টারে ছেয়ে গেছে শান্তিপুর সুত্রাগড় অঞ্চল। সূত্রাগড় বকুলতলা গাবতলা, মালঞ্চ, ফকিরপাড়া, মুসলিম স্কুলের মাঠ, বাইগাছি মোড়, জোড়া কালী বটতলা সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই পোস্টটার দেখতে ভিড় জমে যায়। মূলত 23 নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর বর্তমান পৌর প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য শাহজাহান শেখের এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী 5 জনের নামে এই পোষ্টার লক্ষ্য করা গেল। মূল বিষয়বস্তু দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণ সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করে লেখা আছে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আবাসন প্রকল্পের টাকা তুলছেন ওই প্রাক্তন কাউন্সিলর।
পোস্টার দেখতে আগ্রহী সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে অনেকেরই তাচ্ছিল্য করা মন্তব্য, এ আর নতুন কি! বেশিরভাগ ওয়ার্ডে এই অবস্থা! অনেকেই মন্তব্য করেন, দলের মদত না থাকলে, সাহস পায় কি করে? কেউবা বলেন, মানুষের ও দোষ আছে! অত্যন্ত প্রয়োজন না হওয়া সত্ত্বেও টাকা দিয়ে সরকারি প্রকল্প কিনতে চায় তারা।
যদিও এ প্রসঙ্গে যার বিরুদ্ধে পোস্টার সেই বর্তমান শান্তিপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য শাহজাহান শেখ জানান, বিগত 1990 সাল থেকে, একভাবে 2021 পর্যন্ত কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করেছে ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ। যদি তাদের বিক্ষোভ থাকে তাহলে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করত না। অন্যদিকে সদ্য প্রয়াত পৌরপতি অজয় দে আমাকে পৌর প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন স্বচ্ছতা এবং সততার নিরিখে। গত লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে অনেক ওয়ার্ড হেরে গেলেও আমার ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। তাই দলের কাছে আমার ভাবমূর্তি স্পষ্ট।
কে বা কারা এ কাজ করেছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অতীতে সিপিএম করা কিছু মানুষ কখনো বিজেপি কখনো বা নিজেদের তৃণমূল বলেও পরিচয় দেওয়া মানুষ, আত্মতুষ্টি না করতে পেরে এ ধরনের বদনাম ছড়াচ্ছে আমার বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষ তাদের নেতা হিসেবে মানতে নারাজ, তাই হয়তো হিংসায় এ কাজ করে থাকবে, দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছি। প্রশাসন কেউ সচেতন থাকতে বলেছি রাতের অন্ধকারে এ ধরনের কাপুরুষের মতন কাজ কারা করেছে তা খতিয়ে দেখার জন্য। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করতে পেরেই, ব্যক্তি কুৎসার পথ বেছে নিয়েছেন তারা।