মলয় দে নদীয়া:- গ্রীষ্মকালীন আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদি রকমারি ফল জ্যৈষ্ঠ মাসে সহজে পাওয়া যায়। ভক্তেরা তাদের ইষ্টদেবীকে বিভিন্ন ফল দিয়ে প্রসাদ নিবেদন করে থাকেন। শাস্ত্রে বলা আছে, ‘জীবনেয সর্বস্ব’। যার অর্থাৎ একদিকে ফলহারিণী, সাধকের কর্মফল হরণ করেন। প্রচলিত আছে ঈশ্বর নিবেদিত ওই ফল পরের বছর পুজো পর্যন্ত সময়কাল পর্যন্ত খান না, নিবেদন করা ভক্ত।
অন্যদিকে আজকের দিনেই ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ মা সারদাকে ষোড়শী রূপে পূজা করেছিলেন ।
জ্যৈষ্ঠের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিনী কালীপূজা হয়।১২৮০ সালের ১৩ ই জ্যৈষ্ঠ দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দিরে ফলহারিনী কালীপূজার আয়োজন হয়েছিল। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের মনে মনে ঠিক করেছিলেনঐ দিন নিজের ঘরে এক নতুন পূজার আয়োজন করবেন। সেইমত ষোড়শোপচারে দেবী পূজার সকল আয়োজন করলেন। ঠাকুর সারদামাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি এসে দেখলেন পূজার আয়োজন সম্পূর্ণ হয়েছে।পূর্বাস্য পূজকের সামনে আলপনা দেওয়া পিঁড়ি পাতা হয়েছে। ঠাকুর সেখানে মা সারদা বসতে বললেন। ঠাকুর কি করছেন, কেন করছেন মা তার কিছুই বুঝতে পারলেন না। ঠাকুর মন্ত্রপূত– বারি দ্বারা অভিষিক্ত করে শ্রীমায়ের দিব্যশক্তি উদ্বূদ্ধ করার জন্য প্রার্থনা করতে লাগলেন। শ্রী মা বাহ্যজ্ঞান শূন্য হয়ে চিত্রাপির্তাবৎ হয়ে বসেরইলেন। ঠাকুর ষোড়শোপচারে সেই মাতৃ মূর্তির পূজা করলেন। তারপর ভোগ নিবেদন করলেন। শ্রী মা সমাধিস্থা, ঠাকুর ও অর্ধবাহ্য দশায় মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে সমাধিমগ্ন হয়ে গেলেন। বেশকিছুক্ষণ কেটেগেল ঠাকুরের বাহ্যজ্ঞান প্রকাশ পেল তিনি মাতৃদেবীর চরণে আত্ম নিবেদন করলেন এবং সুদীর্ঘ সাধনার ফলরাশির সাথে জপের মালা দেবীর পায়ে চিরকালের জন্য বিসর্জন দিয়ে প্রনাম করলেন—–
” সর্ব্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্ব্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়নী নমোহস্ত্ততে।।
সৃষ্টি স্থিতি বিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনি।
গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণি নমোহস্তুতে।।
শরণাগত দীনার্ত পরিত্রাণ পরায়ণে।
সর্ব্বস্যার্ত্তিহরে দেবী নারায়ণি নমোহস্তুতে।।”
সমস্ত সাধনার ধন দিয়ে নিজের স্ত্রীকে মাতৃ দেবী রূপে পূজা করেছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ।
তাই তিনি মানুষ হয়েও সমগ্র মানবজাতির গুরুর আসনে বসে আছেন। অন্যদিকে মা সারদার হয়ে উঠলেন সকলেরই মা।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এবছর ফলহারিণী কালীপুজো পড়েছে আজ, বৃহস্পতিবার (১৮ মে, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ)। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড থেকে অমাবস্যা শুরু হচ্ছে। থাকবে পরদিন, শুক্রবার (১৯ মে, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ) রাত ৮টা ৪৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত। দৃকসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে অমাবস্যা শুরু হচ্ছে, আজ রাত ৯টা ১৫ থেকে। থাকবে, শুক্রবার রাত ৮টা ৪৫ পর্যন্ত।
আর সেই কারণেই আগামীকাল সূর্য উদয় ধরে অনেকেই দিনের বেলায় কিংবা সন্ধ্যাবেলায় পুজো করবেন বলেই জানা গেছে। তবে আজ শান্তিপুর সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পুজো হয়।

