অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চাকদহ শিলিন্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন পঞ্চায়েত মেম্বার

নিজস্ব প্রতিবেদন,মৌমিতা দেবনাথ,
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চাকদহ শিলিন্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন পঞ্চায়েত মেম্বার।
সামনে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন আর তার আগেই চাকদহে প্রকাশ্যে এলো তৃণমূলের অন্তরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। গত ১৭ ই ডিসেম্বর রানাঘাটের জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চাকদা তাতলা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পার্থপ্রতিমদে কে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আর সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন যে সোমবারের মধ্যে পঞ্চায়েত প্রধানের ইস্তফা পত্র যেন তিনি পেয়ে যান।নির্দেশমতো সেদিনই পদত্যাগ করেন তাতে এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। আর তার ঠিক পরে আরো এক বিতর্কিত ভিডিও ফুটেজ মাননীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার ফেসবুকে শেয়ার করেন যেখানে দেখা যাচ্ছে। যখন সভামঞ্চের দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই চাকদহ সিলিন্ডার এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে সিলিন্ডার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের রিনা হালদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। মৌখিক অভিযোগ করে পঞ্চায়েত মেম্বার বিনয় মন্ডল একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ ছিল যে পঞ্চায়েত প্রধান অফিসে যান না বাড়িতে থেকে কাজ করেন। দেখুন সেই ভিডিও, যেখানে অভিষেক ব্যানার্জির সামনে পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করেছিলেন পঞ্চায়েতের সদস্য বিনয় মন্ডল। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েত মেম্বার বিনয় মন্ডল অভিযোগ করেন যে পঞ্চায়েত প্রধান রিনা হালদার ইতিমধ্যেই ৮ জন মেম্বারকে পদ থেকে সরিয়ে দেন। প্রধান পঞ্চায়েত অফিসে ঠিকমতো আসেন না বাড়িতেই খুলে নিয়েছেন পঞ্চায়েত অফিস। যে পরিষেবা বা সুযোগ-সুবিধা মানুষকে দেওয়া দরকার মানুষ সেটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত দলীয় কোন কার্যালয় পঞ্চায়েত প্রধানকে পাওয়া যায়নি।
এই অভিযোগকে অবশ্য অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান রিনা হালদার। তার দাবি যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রটানো হচ্ছে। তিনি ভোর পাঁচটা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত কাজ করেন। অফিসে তো বটেই এমনকি বাড়িতে থেকেও তিনি মানুষের সমস্যার সমাধান করেন। তবে এই ঘটনায় অবশ্য পঞ্চায়েত সদস্য বিনয় মন্ডল এর পাশেই দাঁড়িয়েছেন চাকদহ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দিলীপ সরকার। তিনি জানান যে পঞ্চায়েত মেম্বারের বিনয় মন্ডল এর অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না কারণ দলের যে কোনো বিষয়েই সময়মতো সিলিন্ডার এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে পৌঁছে যায় কিন্তু কোন রকম দলীয় কাজে তাকে দেখতে পাওয়া যায় না। এই অভিযোগে পঞ্চায়েত প্রধান রিনা হালদারের স্বামী হরপ্রসাদ হালদার গোটা বিষয়টাই কার্যত অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান যে এটি বিরোধীদের চক্রান্ত। তিনি আরো জানান যে পঞ্চায়েত মেম্বার বিনয় মন্ডল মধ্যব্যবস্থায় থাকেন। ঘটনায় আরো একবার কোন প্রকাশ্যে এল দলের অন্তরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।