মলয় দে নদীয়া :- ব্যবসা হোক বা চাষাবাদ। ভালোবেসে কাজ করার সংখ্যা খুব কম। সকলেরই উদ্দেশ্য মুনাফা। তবে সেই মুনাফা অর্জন করতেও যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হয় তা জানতেন এ বাংলার নদীয়ার শান্তিপুরের মদন দাস । নিজের ১০০ গাছ বাদ দিয়েও এবছর প্রায় সাড়ে চারশ’রও বেশি গাছের লিচু জমা নিয়েছিলেন তিনি। বিগত ১০ বছর যাবত লিচু চাষের কারণে ভিন রাজ্যের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা তার বাগানে ভীড় করে। আর তাদের কাছ থেকেই নানা কথা শুনে আগ্রহ সৃষ্টি হয়, অন্যান্য রাজ্যে লিচুর স্বাদ, চাষ পদ্ধতি, প্যাকেজিং, বিক্রির ব্যবস্থাএ সবকিছু চাক্ষুষ করতে এবছর তিনি পৌঁছেছেন পাঞ্জাবের পাঠানকোটে অবস্থিত ফুড রিসার্চ সেন্টারের অধীনস্থ একটি লিচুর বাগানে। সেখান থেকেই তিনি জানাচ্ছেন , আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম লিচু পাকতে শুরু করে, এরপর বিহার তারপর পাঞ্জাব একেবারে শেষে হিমাচল প্রদেশে। তবে হিমাচল প্রদেশের লিচু খুব বেশি স্বাদ নেই, বিহারের মোজাফফরপুরের লিচু মোটামুটি চলন সই। বাংলার লিচু যেমন স্বাদ তেমন জাতীয় বাজারে প্রথম যোগান দিতে পারে তাই চাহিদাও বেশি। তবে সবচেয়ে ভালো পাঞ্জাবের লিচু। যেমন আকৃতিগত তেমনি স্বাদ। সে রাজ্যে লিচু চাষীদের যে ধরনের সহযোগিতা সরকারি তরফে করা হয় তার নাকি সে কি ভাগও আমাদের রাজ্য হয় না, এমনই আত্মউপলব্ধি হয়েছে তার। সার ওষুধ বিপণন নিত্য নতুন রোগের প্রতিকার এ সমস্ত বিষয়েই রীতিমত বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। আর কৃষকদের পরামর্শ এবং বিভিন্নভাবে সরকারি সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। তবে রাজ্যে ফিরে এসে, সেখানকার সহযোগিতায় তিনি আগামীতে যে আরো ভালো চাষ করবেন সে আত্মবিশ্বাস জন্মেছে তার মনে। অন্যান্য কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি জানিয়েছেন, শুধু লিচু বলে নয় যেকোনো চাষ আমাদের ক্ষেত্রেই অন্যান্য রাজ্যে কিভাবে চাষ হয় নিজের চোখে তা দেখে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

