নিজস্ব প্রতিবেদন, মৌমিতা দেবনাথ,
অপ্রয়োজনীয় ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে গাড়ি বানিয়ে নজির গড়ল নদীয়ার এক ব্যক্তি।ঝা চকচকে গাড়িতে চড়তে সকলেই আমরা কম বেশি ভালোবাসি তাও যদি সেটি হয় নিজের গাড়ি তাহলে তো কথাই। কিন্তু এত টাকা অর্থ ব্যয় করে গাড়ি কেনা সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্তদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। এবার নদীয়ার সঞ্জয় প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি মাত্র ১০ হাজার টাকায় গাড়ি বানিয়ে চমক সৃষ্টি করলেন। নদীয়ার শান্তিপুরের সঞ্জয় প্রামাণিক যখন আছেন তখন দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে দেবেন ঠিক। পেশায় সঞ্জয় প্রামাণিক মন্ডপ সজ্জা করেন। লকডাউনে ঘরে বসে থেকে বিভিন্ন বাতিল ফেলে দেওয়া নোংরা আবর্জনা আসবাবপত্র থেকে তিনি গাড়ি বানানোর চেষ্টা করেন। অভাবের সংসারে ছোট্ট ভাইপোর আবদার মেটাতে গিয়ে তিনি তৈরি করে ফেলেছিলেন আস্ত একটি গাড়ি। পূর্বের ভাবনা থেকেই তিনি এবার নতুন সংযোজন করবেন যে এক সিটের গাড়ির পাশে তিনি আরো একটি সিট বাড়িয়েছেন। যদিও বাস্তব জীবনে সঞ্জয়বাবু এখনো নিজের সঙ্গিনীকে পাননি। এবারে তার গাড়িটি হয়ে উঠেছে আরও বেশি আকর্ষণীয়। গাড়ির সিলিং থেকে ব্যাক লাইট হ্যান্ডেল সবটাই ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র থেকে। তিনি জানালেন যে এবারের গাড়িটি এক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কলেজ পড়ুয়ার অর্ডার নিতে গিয়েই বানিয়েছেন তিনি। তার এই গাড়ি প্রতিবন্ধী বয়স্ক মানুষ সহ সকলেই নিরাপদে চালাতে পারবেন। তবে শুধুমাত্র এইটুকুই নয় সঞ্জয় বাবুর আরো একটি নেশা আছে সেটি হল বিভিন্ন গাছের শিকড় দিয়ে তিনি ভাস্কর্য তৈরি করেন। শান্তিপুর পৌরসভার সিএসসি মেম্বার শুভজিৎ দে মাঝ পথেই তাকে সংবর্ধনা দিলেন। তার তৈরি এই অভিনব গাড়ি দেখতে ভিড় জমাচ্ছে বহু মানুষ। তবে প্রচার বিষয়টি তিনি একেবারেই ভালবাসেন না। তিনি মনে করেন যে প্রচার হলেই অনেক বেশি সহজলভ্য হয়ে যেতে হয়।

