মলয় দে নদীয়া :- আজ নদীয়ার শান্তিপুর বেলঘড়িয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের গ্রাম সভা পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের প্রার্থীদের নিয়ে একটি জাঠা ঘুরে বেড়ায় সমগ্র গ্রামাঞ্চল। পাড়ার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে তারা বর্তমান তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি স্বজনপোষণ এবং অনুন্নয়ন প্রসঙ্গে তাদের মতামত শোনেন। কথা দেন বিগত গর্বের ৩৪ বছরের মতন আবারো নিঃস্বার্থভাবে সততার সাথে পরিষেবা দেবেন।
পঞ্চায়েত সমিতির ১৭ নম্বর আসনে প্রার্থী কাঞ্চন সরকার, ১৬ নম্বর আসনে পঞ্চায়েত প্রার্থী দয়াল প্রামানিক, জেলা পরিষদের 30 নম্বর আসনের দিয়া সরকার সহ বেশ কিছু গ্রাম সভার সদস্যদের নিয়ে সিপিআইএম নদীয়াজেলা কমিটির সদস্য সৌমেন মাহাতো এদিন সারাদিন ব্যস্ত থাকেন ভোট প্রচারে। তিনি বলেন, আপাদমস্তক দুর্নীতি যুক্ত তৃণমূল পরিচারিত জেলা পরিষদ পঞ্চায়েত সমিতি এবং বিভিন্ন পঞ্চায়েত এবার মানুষের পঞ্চায়েত হতে চলেছে, যদি মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোটদান করতে পারে তাহলে।
জেলা পরিষদ প্রার্থী দিয়া সরকার জানান তিনি ২০১৩ সালে সমিতির জয়ী প্রার্থী ছিলেন, তবে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতি তার এলাকায় কোনো কাজ করতে দেয়নি, এরপর জয় অভ্যাসম্ভাবী দেখে ২০১৮ সালে নমিনেশন সাবমিট করতে দেয়নি, যদিও বা নিজেকে আত্মগোপন করে জমা দিয়েছিলাম তাও বাড়ির উপরে এসে হুমকি দিয়ে তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করিয়েছিলো। আর এ সবই এই এলাকার মানুষের জানা। তবে দিন বদলাচ্ছে দেওয়ালে পিঠ থেকেছে মানুষের, তাই তারা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে।
সমিতির প্রার্থী দয়াল প্রমাণিক জানান, এম এ পাস করার পর সেদিনের ইন্টারভিউ লেটার ছিড়ে ফেলে, চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। তখন স্থির করেছিলাম, বেকারের এই রাজত্বে তাদেরই প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিবাদ করব। আজ সেই সুদিন, বয়স্ক প্রবীণরা তো বটেই এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও উদগ্রিব হয়ে রয়েছে আমাকে জেতানোর জন্য।
পঞ্চায়েত সমিতির অপর এক সদস্য কাঞ্চন সরকার, নদীয়া জেলা ডি ওয়াই এফ আই জেলা কমিটির সদস্য। ছোটো থেকে বড় হওয়া, এবং তার পরবর্তী শ্বশুর বাড়ি সবটাই বামপন্থী। তাই এর আগে ভোটে দাঁড়ানোর অভ্যাস না থাকলেও, মানুষের জন্য বুক চিতিয়ে লড়াই করার অভিজ্ঞতা আছে। শিক্ষায় নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতিতে যখন নেতা-মন্ত্রীরা জেলে, তৃণমূলের নেতৃত্ব বছরের বেশিরভাগ সময় ইডি সিবিআইয়ের তত্ত্বাবধানে। তখন সাধারণ মানুষকে খুব বেশি বোঝানোর প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না, বামেরা আবারও যে ঘুরে আসছে সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত।

