অজ্ঞতা এবং অসহিষ্ণুতার কারণে নদীয়ার হবিবপুরে প্রহৃত রেলের লকগেট কর্মী

মলয় দে নদীয়া :- গতকাল বিকালে ডাউন শান্তিপুর লোকাল হবিবপুরে ৫.২২ মিনিটে বেরোনোর পর, ওই লেবেল ক্রসিং এ কেবিনের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে গেট কর্মী চন্দ্রশেখর দোশাদকে বেদম প্রহার করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় দুই মোটরসাইকেলে আগত তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
রেল সূত্রে জানা যায়, তাদের অভিযোগ ছিলো ট্রেন বেরিয়ে যাওয়ার পরেও গেট ফেলা হয়েছে কেনো, যদিও ফুলিয়া স্টেশন মাস্টার এর পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গেট ফেলে রাখার এমনটাই জানিয়েছেন গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ওই রেল কর্মী।
এই নিয়ে প্রাথমিকভাবে বাদানুবাদ চলে, এরপর উত্তেজিত ওই দুই যুবক বেধড়ক মারধর করে ওই রেলকর্মীকে। বিষয়টি জানাজানি হতেই জিআরপি এবং আরপিএফ এর পক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়ে রানাঘাট আনুলিয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, তার শারীরিক পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়ার কারণে আজ কাঁচরাপাড়া রেলওয়ে হাসপাতালে তাকে স্থানান্তরিত করা হয়। জানা যায় চন্দ্রশেখর বাবুর প্রকৃত বাড়ি উত্তর প্রদেশ। কর্মসূত্রে তিনি রানাঘাট রেল কোয়ার্টারে থাকেন, দীর্ঘ ১২’বছর ধরে তিনি হবিবপুর E/59/C /3 এই লকগেটে কর্মরত।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইস্টার্ন রেলওয়ে মেন্স কংগ্রেসের কৃষ্ণনগর শাখার পক্ষ থেকে সম্পাদক রজত বসু ইস্টার্ন রেলওয়ে রানাঘাট শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দিয়ে গতকাল রাতেই একটি অভিযোগপত্র জমা করেছেন, সেখানে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। যদিও তিনি অন্য একটি প্রসঙ্গে, একই ধরনের হেনস্থার পূর্ব ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রেলকর্মীরা সকলেই সাধারণ পরিবার থেকে আসে, এবং তারা একটি নির্দেশ পালন করে মাত্র তাই তাদের লাঞ্ছনার ঘটনা থেকে বিরত থেকে সাধারণ মানুষকে আরো ধৈর্যবান হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কারণ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যই দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন তারা।
বিশেষ সূত্র অনুযায়ী জানা যায়, অভিযুক্ত ওই তিন ব্যক্তির নাম সঞ্জয় সরকার, সঞ্জীব সরকার এবং সুমন্ত সরকার , যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি কেউ।