পরিবার এবং নিজের কথা ভেবে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বিভিন্ন পেষার প্রান্তিক মানুষদের
মলয় দে নদীয়া :- ইচ্ছে ছিলো সাধারণ মানুষ কী পরিমাণে মাস্ক ব্যবহার করছেন তা আপনাদের দেখানোর। সেই মতই এই কনকনে শীতের কুয়াশা ভোর সকালে, আমরা পৌঁছেছিলাম শান্তিপুর ব্রহ্মাতলা মাছ বাজারে, সাংবাদিক তকমা থাকার কারণে মারতে না আসলেও ছবি তোলা শুরু করতেই নানান তির্যক মন্তব্য শুরু হলো। মন্তব্যগুলি তির্যক হতে পারে তবে বাস্তবের মুখে দাঁড়িয়ে ছিলাম বেশ কিছুক্ষণ। খুব বেশি পড়াশোনা না জানা ছাপোষা মৎস্যজীবীদের প্রশ্ন চারটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নমিনেশন জমা দিতে যাওয়ার ছবি গুলো দেখেছেন? আপনাদের টিভিতেই তো দেখিয়েছে। সেখানে কোনো সাংবাদিককে প্রশ্ন করতে শুনিনি মাস্ক কোথায়? কি প্রয়োজনে এই জমায়েত করে ভীড়ে ঠাসাঠাসি মিছিলের উল্লাস? দু-দুবার লকডাউন করার পর কবার খোঁজ নিয়েছিলেন আমাদের? পাঠশালা বন্ধ রেখে পানশালা খুলে রাখার মানে কি?
নিজেরাই বললেন রাত তিনটের সময় উঠে পুকুরে নেমে মাছ ধরে ভিজে কাপড়ে তা বিক্রি করতে আসলে করোনা তো দূরে থাক সর্দি-কাশি পর্যন্ত ছুঁতে পারে না আমাদের।
এরপর গোবিন্দপুর কাঁচামালের আড়তে কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের মেলবন্ধন পরিণত হয়েছে মেলায়। সেখানেও এ ধরনের নানা প্রশ্নের পর, মারণ প্রশ্নবাণ ধেয়ে আসলো। আক্রান্ত না হলেও মাস্ক বাধ্যতামূলক এবং তার না মেনে চললে শাস্তিযোগ্য অপরাধ তা কোন আইনে লেখা আছে? রাস্তার ভবঘুরে কৃষক মেহেনতি শ্রমিক প্রকৃতির মধ্যে কায়িক পরিশ্রম করা কোন মানুষটির করণা হয়েছে এবং মারা গেছে বলতে পারেন? কম শিক্ষিত মানুষ গুলোর উত্তর আমার জানা ছিল না, তবে এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের কাছ থেকেও সদুত্তর পায়নি। নানান রকম আইনি জটিলতার ভয়ে এবং নিজেকে সচেতন নাগরিক প্রমাণ করতে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশের বুলি আওড়াচ্ছি হয়তো। প্রকৃতির মাঝে থাকা মানুষগুলো প্রকৃত রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে না তো? প্রকৃতি থেকে অনেক দূরে সরে আসা আমরাও হয়তো বুঝবো অনেক দেরিতে। সরকারি স্বাস্থ্য বিধির বিরোধিতা নয়, তবে বেশ কিছু পেষার প্রান্তিক মানুষ দের দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে সামান্য রেশনের কিছু চাল, এবং জীবন-জীবিকার অসুবিধার কারণে তা অনেক সময় লঙ্ঘিত হচ্ছে। তবে তা ইচ্ছাকৃত নয়, পুলিশের ধরপাকড়ে সমস্যায় পড়ছেন তারাও।

