মলয় দে নদীয়া :-
প্রধান শিক্ষিকাকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আজও স্কুলে প্রবেশ করলেন ব্রজকিশোর গোস্বামী।
সমগ্র শান্তিপুর বিধানসভা শাসনকর্তা বিধায়ককে যাঁরা আজও শাসন করে থাকেন তাদের মধ্যে শ্রীমতি মেনকা পাল চৌধুরী অন্যতম। শিশুমঙ্গল পার্ষদ অনুমোদিত 1982 সাল থেকে চলে আসা শান্তিপুরের ভূষণ দাস শিশু নিকেতনে
1993 সাল থেকে 1999 সালের শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক এই বিদ্যালয়য়ে জীবনের প্রথম পড়াশোনা শুরু করেছিলেন বর্তমান বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী। সে সময় 6 জন শিক্ষিকার মধ্যে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সেই সময় থেকে একভাবে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্বে থাকা শ্রীমতি মেনকা পাল চৌধুরী আজও মায়ের স্নেহে কোলে বসিয়ে শিক্ষা দানের মাধ্যমে করে চলেছেন একের পর এক সমাজ গড়ার কারিগর ।
বিধায়ক হওয়ার পর নিজের ছোটবেলার পড়াশোনা ক্ষেত্র শান্তিপুর কলেজ, মিউনিসিপাল স্কুলে বিভিন্ন প্রশাসনিক মিটিং এ উপস্থিত হতে হলেও, শিক্ষা জীবনের প্রথম এই শিশু নিকেতনে আজ অনেকদিন বাদে আসা বলেই জানালেন বিধায়ক। আবেগাপ্লুত হয়ে বিধায়ক শোনান, সেদিনের শ্রেণিকক্ষে চেয়ার বেঞ্চ ব্ল্যাকবোর্ড কিছুই ছিল না, মাটিতে আসন পেতে বসে, কখনো দিদিমণিদের কোলে চোড়ে পড়াশোনা শেখার, নানা স্মৃতিকথা।
শুধু বিধায়ক নন বর্তমানে পৌরসভার প্রশাসক সুব্রত ঘোষের একমাত্র সন্তান সাত বছর পড়েছে, সহকারি পৌর প্রশাসক শুভজিৎ দে তিনি নিজেই ছাত্র ছিলেন এই বিদ্যালয়ের।
সকলের সহযোগিতায় তিল তিল করে গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়য়ের উন্নতিকল্পে সহযোগিতা করতে পারলে নিজেদের গর্বিত বোধ করবেন বলে জানান প্রত্যেকেই। কচিকাচাদের নাচ গান আবৃত্তির মাঝে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বিধায়ক বলেন, ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তার যেমন প্রয়োজন সেই রকমই ভালো রাজনীতিবিদও প্রয়োজন, যে কোন স্থান কখনো শূন্য থাকে না, ভালো মানুষদের দিয়ে ভরাট না করলে সুবিধাবাদীদের ভিড় জমে। ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনের জীবনের প্রথম সিঁড়ি ভুলে গেলে উপরে ওঠা যায় না। বাবা-মার পরেই প্রথম শিক্ষাদাত্রীদের উপযুক্ত শিক্ষাদানে আজ তিনি বিধায়ক, তবে পথটা খুব সহজ ছিলো না, গুরুজনদের অদৃশ্য আশীর্বাদে সম্ভব হয়েছে।

