শারীরিক উচ্চতা কম হলেও নজর ছিলো উঁচুতে! নদীয়ার প্রত্যয়-এর প্রত্যাশাপূরণ, পা রাখলো সিনেমা জগতে, তাও আবার নায়কের ভূমিকায়

 

 

মলয় দে নদীয়া:- খর্বাকৃতি মানুষদের নিয়ে বিভিন্ন নাটক সার্কাস সিনেমায় হাসি তামাশা দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু অভিনয় কি সম্ভব! রানাঘাটের পায়রাডাঙ্গার প্রত্যয় ঘোষ এখন বাংলা সিনেমার নতুন মুখ । কি ভাবছেন! কোনো সাইড রোল ? একেবারেই না সিনেমার মুখ্য চরিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করছে প্রত্যয় ঘোষ। সিনেমার নাম কুলপি। পরিচালক বর্ষালী চট্টোপাধ্যায় , আর তার নায়িকা পায়েল সরকার , প্রত্যয় এর বাবার ভূমিকায় অভিনয় করছে রজতাভ দত্ত ও সৎ মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করছে চুমকি চৌধুরী এছাড়াও রয়েছেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ।
এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে প্রত্যয় আর তার কয়েক বছরের পর তার মা-বাবা জানতে পারেন আর পাঁচটা বাচ্চার মতন প্রত্যয়ের শারীরিকভাবে উচ্চতা বৃদ্ধি হবে না সারা জীবন থাকবে খর্বাকৃতি হয়েই , তখন তার মা ভেঙে পড়েন ছেলের ভবিষ্যৎ কি হবে সমাজে তার প্রতি লাঞ্ছনা গঞ্জনা তাকে সহ্য করতে হবে -সারা জীবন, এই দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ে প্রত্যয়ের মা-বাবা। তবে ছোটবেলা থেকেই সে অত্যন্ত মনোযোগী এবং পরিশ্রমী, পড়াশোনার সাথে সাথে অভিনয়কে ভালোবেসে ফেলে সে। কোন নামিদামি সংস্থায় না শিখলেও তার এই আগ্রহের পিছনে পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষ প্রত্যয় এর পাশে দাঁড়ায় । প্রত্যয় এর স্বপ্ন পূরণ করার জন্য দিনরাত এক করে দেন , আজ প্রত্যয় তার স্বপ্ন পূরণ করেছে সে দেখিয়ে দিয়েছে শারীরিক গঠন নয় মনটা বড় হওয়া উচিত তাহলেই মানুষ সমস্ত স্বপ্ন পূরণ করতে পারে । আজ সেশুধু পায়রাডাঙ্গার নয় গোটা নদিয়াবাসীর গর্ব ।
প্রাচীন বাংলা প্রবাদ মিথ্যা প্রমান করে আর পাঁচটা যুবককে পেছনে ফেলে, বামন হয়েও চাঁদ ছুঁয়েছে সে। তবে পরিচালক বর্ষালী চট্টোপাধ্যায়ের সাহসী পদক্ষেপ কে সাধুবাদ জানিয়েছেন নেটিজেনরা। তবে প্রত্যয় জানায়, প্রডিউসার বিদ্যুৎ দাস না থাকলে স্বপ্নপূরণ কোনো ভাবেই সম্ভব ছিলনা, অভিনয় ভালোবাসি তাই জানতাম একদিন অভিনয় করব কিন্তু প্রথমেই এত বড় প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র ওনার জন্যই।