সেনাবাহিনীরা চলে গেলেন ঠিকই কিন্তু শিখিয়ে গেলেন অনেক কিছু

 

মলয় দে নদীয়া:- বিধানসভা উপনির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ মানুষের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে উপস্থিত হয়েছিলেন 22 কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। যার মধ্যে সিআইএসএফ, বিএসএফ, এসএসবি, সিআরপিএফ সেনা জওয়ানরা। রূটমার্চের সময় তাদের বুটের শব্দ যেমন কুচক্রীদের রাতের ঘুম উড়িয়ে ছিলো, ঠিক বিপরীত ভাবে সাধারণ ভোটারদের নিশ্চিন্তে ঘুমাতে সাহায্য করেছিলো। তাদেরকে ঘিরে কৌতুহল সকলের। অথচ তাদের বিভিন্ন খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেলো অত্যন্ত নিয়মানুবর্তিতা, কঠোর পরিশ্রম এবং অত্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তাদের। শান্তিপুর শহরের 12 নম্বর ওয়ার্ডে আমড়াতলা এলাকায় একটি বুথে চূড়ান্ত অব্যবস্থায় ভোট কর্মীরা প্রতিবাদ করলেও, সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে সেনা জওয়ানরা কয়েকদিন আগে থেকে ওই বিদ্যালয়ের মাত্র দুটি ঘর তারা স্বইচ্ছায় ছেড়ে দিয়ে, খোলা আকাশের নিচে নিশিযাপন করেন বিনা বাক্য ব্যয়ে।
সকালে শারীরিক অনুশীলন যোগা, বিকালে ভলিবল ক্রিকেট সন্ধ্যায় ব্যাডমিন্টন নানা বিধ খেলার মাধ্যমে শরীর চর্চা করে থাকেন তারা। বাজার করা, রান্না জামা কাপড় কাচা, প্রতিদিন নিয়মিত নিজের ঘর সমগ্র বিদ্যালয় এমনকি বাইরে রাস্তা পর্যন্ত পরিষ্কার রাখা প্রত্যেকেই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কর্তব্য পালন করেন। এ প্রসঙ্গে আমরা এসএসবি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড‍্য শৈলেশ সিং আমাদের জানান, এই বিদ্যালয়ে কিছুদিন বাদে খুলবে, তারা পরিষ্কার দেখলে তবেই তো শিখবে, মানুষের অভ্যাস অনভ্যাস জনিত কারণে অপরিষ্কার হয়ে থাকে অথচ কারোর উপর দোষারোপ না করে নিজেই দৈনন্দিন একটু করে দায়িত্ব নিলেই পারিপার্শ্বিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা যায়। হরি পুর হাই স্কুল এবং মিউনিসিপ্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের কেয়ারটেকার উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, একজন বড় অফিসার পর্যন্ত ঝাঁটা হাতে পরিষ্কার করছেন আমাদের যত্রতত্র ফেলা নোংরা। অথচ এর আগেও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি এবং রাজনৈতিক সভা-সমিতি হয়েছে তাতে এত পরিমান নোংরা হয়েছে যে আমাদের একদিকে যেমন খাটনি বেড়েছিলো, সেই রকম সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। তবে ভোটের পর কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করলাম কোন কাজ আমাদের অবশিষ্ট নেই। এলাকাবাসীরা জানান সেনাবাহিনী চলে গেলেন ঠিকই কিন্তু শিখিয়ে গেলেন অনেক কিছু।