জ্বরের প্রকোপ কে অহেতুক বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে এমনই অভিমত ওএসডি ডক্টর সুশান্ত রায় এর

সায়ন সেন জলপাইগুড়ি: জ্বরের প্রকোপ কে
অহেতুক বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে এমনই অভিমত ওএসডি ডক্টর সুশান্ত রায় এর ।
এদিন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক ও ডাক্তার দের নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পরিকাঠামো ও আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা খতিয়ে দেখেন। কি নিয়ে গঠিত এই পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রথমে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা সরজমিনে খতিয়ে দেখেন।এদিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দলে ছিলেন ডাক্তার রাজা রায়,প্রফেসার পল্লব ভট্টাচার্য, ডাক্তার দীপ্তকান্ত মুখোপাধ্যায়, ডাক্তার মিহির সরকার ও ডাক্তার বিকাশ মন্ডল বলে জানা গেছে। প্রথমেই বিশেষজ্ঞ কমিটি সেখানে তারা মেডিকেল কলেজের আধিকারিকদের সাথে এক বৈঠকে বসেন। পরবর্তীতে জলপাইগুড়ি পৌঁছে সিএমএইচ, সুপার, ওএসডি ও বিভিন্ন ব্লকের বি এম ও এইচ সাথে নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের পর উত্তরবঙ্গের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ দায়িত্ব প্রাপ্ত ডাক্তার সুশান্ত রায় সাংবাদিকদের জানান পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে এবং আক্রান্ত শিশুদের কোন রকম অসুবিধা হচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে ঘুরে দেখতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের এই বিশেষ টিমের জলপাইগুড়িতে আগমন। তিনি বলেন প্রতিবছর এই সময় বহু শিশু এই ধরনের ভাইরাল ফিভারে এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এবছর করণা অতি মাড়ির প্রকোপ থাকার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য দপ্তর সমস্ত রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে শিশুদের সুরক্ষিত রাখার বন্দোবস্ত করেছে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে। সামান্য কিছু বাড়াবাড়ি দেখা গেলেই প্রয়োজনের নিরিখে তাদের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হচ্ছে। বর্তমানে ১১৯ জনের মত জ্বর সর্দি-কাশি বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের ভর্তি থাকলেও আতঙ্কের কোন কারণ নেই বলে জানান তিনি। সূত্রের খবর জ্বরের প্রকোপ সংবাদমাধ্যম অতিরঞ্জিত করে পরিবেশন করছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে এমনই অভিযোগ করেন ওএসডি ডক্টর সুশান্ত রায়। সাংবাদিক সম্মেলন শুরু হওয়ার প্রথমেই এক নামি সংবাদ সংবাদ পত্রের সাংবাদিককে তিনি ধমকের সুরে বলেন আমার মুখে কথা বসাবেন না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য জ্বর হলেই ‘হাসপাতালে নয় নিদান সুশান্তের’ উল্লিখিত সংবাদপত্র গতকাল এই শীর্ষক সংবাদ পরিবেশন করায় বেজায় চটে যান ওএসডি ডক্টর সুশান্ত রায়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ব্লক স্তরের তথ্য সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও আশা কর্মীদের দিয়ে সম্ভবত কোন টিম গঠন করতে চলেছে স্বাস্থ্য দপ্তরে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ টিম এর সাথে আলোচনার পর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সব বয়সী শিশুদের একসাথে না রেখে আলাদা একটি নতুন শিশু বিভাগ চালু করে সেখানে যেহেতু শুন্য থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যেহেতু এই ধরনের ভাইরাসে এই বয়সী শিশুরা বেশি সংক্রমিত হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে আক্রান্তের হার যেহেতু বেশি তাই এই ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণে তাদের শারীরিক অবস্থারও দ্রুত অবনতি ঘটছে তাই এই বয়সী শিশুদের ওই বিশেষ বিভাগে রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিনিধি দলের সদস্য ডক্টর রাজা রায় জানান পরিকাঠামো এবং ভর্তি হওয়া অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে তারা সন্তুষ্ট, সঠিকভাবেই শিশুদের চিকিৎসা চলছে। পরিকাঠামোগত কয়েকটি বিষয় তারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন অতি দ্রুত নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড সহ এই সমস্ত বিষয়গুলি মিটিয়ে ফেলা হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল জ্বরের প্রকোপে গোটা জেলা জুড়ে যখন বহু শিশু আক্রান্ত হচ্ছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেক শিশুকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেফার করা হচ্ছে এই পরিস্থিতিতে জেলা হাসপাতালের সুপার ও জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সি এম ও এইচ দুজনেই ছুটিতে এতে কি প্রশাসনিক কোন অসুবিধা হচ্ছে না। জবাবে মেজাজ হারান ওএসডি ডক্টর সুশান্ত রায় তিনি বলেন উনারা পারিবারিক প্রয়োজনে ছুটিতে আছেন কাজ তো চলছে আপনার অসুবিধা কি? শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আজও ৩ জন শিশুকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের রেফার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।