মলয় দে নদীয়া:- বহু পুরাতন সাবেকি পাড়ার আকাশছোঁয়া দামের জমিতে, চারিদিকে ইট কাঠ পাথরের নির্মাণের মাঝে পিচ রাস্তার ধারে বাড়ির উঠানেই ফলেছে ধান! তাও আবার সার ওষুধ ছাড়াই । নদীয়া শান্তিপুর শহরের ৬নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত সর্বনন্দীপাড়ার সুভাষ কর পেশায় তাঁত কাপড়ের ব্যবসায়ী। পরিবারের কেউই কোনোদিন চাষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পরিবার সূত্রে জানা যায় বাড়ির সামনে আটকাঠা ফাঁকা জায়গা কিনেছিলেন কয়েক বছর আগে। সেখানেই লাল শাক,বেগুন ,লংকা ,পটল, উচ্ছে, ঢেঁড়স, পেঁপে নানানা আনাজ শাকসবজি চাষ করেছেন বিষমুক্ত খাবারের সন্ধানে। যদিও একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর তাঁর পরিবারে তিনি এবং তার স্ত্রী ছাড়া কেউ নেই তবুও পাশাপাশি প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন পরিজন সকলকেই বিষপান থেকে বিরত রাখতে পেরেছেন এতেই তিনি খুশি। বাড়ির উঠোনে চাষের জমিতে ব্যবসায়িক কারণে খুব বেশি সময় না দিতে পারলেও, চাষের সহযোগিতায় দুজনকে মাস মাইনে দিয়ে রেখেছেন। তারাই বিভিন্ন শাক সবজির আনাজের পর কীটনাশক এবং সার বহির্ভূত ধান চাষে সফল হয়েছেন। প্রথম বারেই মা লক্ষ্মী দুহাত ভরে সোনা ফলিয়েছেন তার উঠানে। এতটাই ফলন হয়েছে যে বৃষ্টির জলে ধানের ডগা ভারী হয়ে গিয়ে নুইয়ে পড়েছে মাটিতে, আর সেটাই এখন এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে! তবে অত্যাধিক ফলনের পেছনে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই মাটিতে কখনো সার কীটনাশক পড়েনি তাই এই ফলন।
কর পরিবারের দাবি, গোটা জমিটাই আগামীতে ভরিয়ে চলবেন ভেষজ ঔষধী গাছ গাছরা, দেশি-বিদেশি নানান ফুল, দুর্লভ ফলমূল এবং নিত্য প্রয়োজনীয় নানান খাদ্য খাবারে। সুভাষ করের স্ত্রী জানান উৎপাদন যাইহোক! সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করবেন না কখনই। শুধু কি মানুষ! বিভিন্ন পশুপাখি কীটপতঙ্গর বাসস্থান এবং খাদ্যের যোগান কমে যাচ্ছে ক্রমশ। তাই তাদের অবাধ বিচরণের অনুমতি থাকবে আমার বাগানে।

