মলয় দে নদীয়া :-আজ মোহনবাগান ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবস। চলুন আজ এই বিশেষ দিনে প্রথমে খোঁজ নিই ফুটবল সম্পর্কে।
ইতিহাস খোঁজ নিয়ে জানা যায় চীনদেশে ফুটবলের জন্ম। পরবর্তী 350 অব্দের দিকে গ্রীক ও রোমানরা বল দিয়ে নানান খেলাধুলা করত। চীনদেশে টু সু অর্থাৎ পা দিয়ে লাথি, ছূ পা অর্থাৎ চামড়ার বল, জাপানে কিমারি , ইতালিতে ক্যলচিও, এ ধরনের নানা নামে পরিচিত। তবে অনেকেই ইংল্যান্ডেকে আধুনিক ফুটবলের হিসেবে বিবেচিত করেন।1066 সালে এই খেলা নিয়ে রীতিমতো গন্ডগোলের পর্যায় পার করে যুদ্ধর আকার ধারণ হয়েছিল, অনেকে পঙ্গু অনেকে মৃত্যুবরণ করে !1870 সালে আইন করে নিয়ম নীতি প্রবর্তন করে ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে জাহাজে খেলার ব্যবস্থা দেখে কেল্লার সৈনিকরা অনুপ্রাণিত হয়। 1854 সালের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম ফুটবল খেলা হয় কলকাতার শীর্ষস্থানীয় রাজপুরুষদের সাথে ব্যারাকপুরের ইংরেজ সাহেব দের। ইংরেজদের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল এই ফুটবল।1911 সালে আইএফএ শিল্ডে মোহনবাগান ইস্ট ইয়র্কসায়ার রেজিমেন্ট দলকে 2-1 গোলে পরাজিত করে।১৯৮৯ সালে ক্লাবের প্রতিষ্ঠা শতবর্ষ উপলক্ষে ভারত সরকার একটি স্মারক ডাকবিভাগ প্রকাশ করে।১৮৮৫ সালে শোভাবাজার ফুটবল ক্লাব পরবর্তীতে গঙ্গা পারে তৈরি হলো কুমারটুলি ক্লাব তার ওপরে টাউন ক্লাব। ১৮৮৭-৮৮ সালে শ্যামবাজার মোড়ে নিকটস্থ বিরাটাকার মিত্রের বাড়ি মোহনবাগান ভিলা নামকরণ করা হয়। ১৮৮৯ সালে আগস্ট মাসে 14 নম্বর বলরাম ঘোষ সিটের ভূপেন্দ্রনাথ বসুর বাড়িতে মোহনবাগান ভিলাই খেলা করা ছেলেদের নিয়ে গড়া হয় মোহনবাগান স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথম সভাপতি এবং সম্পাদক যতীন্দ্রনাথ বসু এবং ফুটবল দলের অধিনায়ক মনিলাল সেন।১৯০৭ সালের পর পর পর তিনবার ট্রেডার্স কাপ জেতার পর সাহেবদের হারানোর স্বপ্নে আইএফএ জয়ী হয়, গর্ডন হাইল্যান্ড কে পরাজিত করে। ১৯১১ সালে ইস্ট ইয়ার কে পরাজিত করে।
প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সারা রাজ্যে , এই দিনটি মহা সমারোহে পালন করে আসছেন মোহনবাগান সাপোর্টাররা। সেই মতন নদীয়া শান্তিপুর, রানাঘাট চাকদা, কৃষ্ণনগর, কল্যাণী এ ধরনের নিজ নিজ এলাকায় নানা স্থানে মোহনবাগান মেরিনার্স নামে গড়ে তোলা সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে এই দিনটিতে। শান্তিপুরে পতাকা উত্তোলন, ফুটবলে এবং লোগোতে মাল্যদান করে থিম সং পরিবেশনের মাধ্যমে উজ্জাপিত করে এই দিনটি। সবুজ মেরুন পতাকায় সেজে উঠেছে গোটা জেলা। কেক কেটে, সবুজ মেরুন স্মোক উড়িয়ে আনন্দ ভাগ করে নেয়। এর পরবর্তীতে 100 টি দুঃস্থ শিশুদের মধ্যে খাদ্য খাবার বিতরণ করেন।

