আজ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়ের জন্ম এবং মৃত্যু দিবস! অর্থাৎ ডক্টরস ডে

মলয় দে নদীয়া :-1882 সাল এবং 1962 সাল, দুটি আলাদা হলেও ! দিন একটাই পয়লা জুলাই। ভগবান গৌতম বুদ্ধের মতন পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের জন্ম এবং মৃত্যু একই দিনে। বিহারের পাটনা জন্মগ্রহণ করলেও পরবর্তী পড়াশোনা কলকাতায়, মোটরগাড়ি চালানোর প্রতি অত্যন্ত ঝোঁক এবং কিছুটা অর্থনৈতিক কারনেও একদা কলকাতা রাস্তায় চালক হিসেবেও দেখা গেছে তাঁকে । ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডাক্তারের পড়াশোনার আবেদনের দ্বিতীয় টির অনুমতি পত্র আগে আসায় , তাই তিনি ডাক্তার! তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তাঁর বেশি, সে বিষয়ে যথেষ্ট পড়াশুনাও করেন তিনি। মাত্র বারশো টাকা হাতে নিয়ে ডাক্তারি পড়তে বিলেত যাত্রা! এম আর সি পি এবং এফ আর সি এস মাত্র দু’বছরেরই দুটি ডিগ্রি। তবে বিলেত যাত্রার আগে তার পারিশ্রমিক ছিলো 200 টাকা , ডিগ্রি অর্জন করে ফিরে এসে মাত্র পাঁচ টাকা! শুধু স্বপ্ন ছিলো একটাই, রোগমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ বানানো। কাকভোরে ঘুম থেকে গীতা ও ব্রম্ভস্ত্রোত পাঠ করে উঠে, সাতটা থেকে নটা দু’ঘণ্টা বিনামূল্যে 16 জন রোগী দেখে তবেই অন্যান্য কাজ, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও আমৃত্যু ছিল এই অভ্যাস। 1955 সালে তৎকালীন জাতীয় কংগ্রেসের বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শামিল হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ। বেঙ্গল আইনসভা পরিষদের ব্যারাকপুর নির্বাচনী এলাকা থেকে জনপ্রিয় প্রতিপক্ষ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কে পরাজিত করে তিনি জয়লাভ করেন। 1928 সালে, নিখিল ভারত কংগ্রেসের সভাপতি হন। হাজার 931 সালে কলকাতার মেয়র হন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদ্বুদ্ধ করার অপরাধে তৎকালীন ইংরেজদের নাগরিক অবাধ্যতা আইনে আলিপুর কারাগারে তাকে বন্দী করা হয় একবার। 1942 সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য নিযুক্ত হন তিনি। চলচ্চিত্রের প্রতিও তার দূরদর্শিতা লক্ষ্য করা যায় পথের পাঁচালী সরকারিভাবে প্রযোজনার ব্যবস্থা করেন তিনি।
বুদ্ধদেব বসু অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত প্রবোধ সান্যাল এর মত বেশকিছু লেখক সাহিত্যিক তার শরণাপন্ন হন লেখার মধ্যে কিছু অকৃতজ্ঞ এবং অশালীন বিষয়ে লালবাজারের চোখরাঙানির থেকে বাঁচতে।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন 23 শে জানুয়ারি 1948 সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ঠিক তার আগের মাসে ডাক্তারি পেশায় 42000 টাকা উপার্জন করতেন তিনি, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর চৌদ্দশ টাকা পেতেন সরকারিভাবে। লবণ হ্রদ, বিধান নগর, দুর্গাপুর ,কল্যাণী, সহ বেশ কিছু নোটিফাইড এরিয়ার মাধ্যমে সুপরিকল্পিত শহর গড়ে তোলেন। দারিদ্রতার কারণে স্যার নীলরতন সরকার এর কন্যা কল্যাণী সরকারের সাথে বিবাহে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে, আজীবন অবিবাহিত থাকেন তিনি। 1961 সালে ভারত সরকার ভারতরত্ন উপাধি প্রদান করে তাঁকে। 1962 সালে পহেলা জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়ার পর দোসরা জুলাই, তাঁর ইচ্ছামত তারই তৈরি কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
আর সেই থেকেই, এক এবং অদ্বিতীয় এই ডাক্তারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, আজকের দিনটি পালিত হয়ে আসছে ডক্টর ডে হিসেবে।