ধর্ষিতা মেয়ের মেডিকেল করাতে এসে, মায়ের সাথে দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা প্রতীক্ষায় পুলিশও! 24 ঘন্টা ডিউটিতে থাকা গাইনোকোলজিস্ট ব্যস্ত প্রাইভেট প্র্যাকটিসে

মলয় দে নদীয়া :-24 ঘন্টা ডিউটি থাকা সত্ত্বেও , প্রাইভেট প্যাকটিসে ব্যস্ত গাইনোকোলজিস্ট !ধর্ষিতা মেয়ের মেডিকেল করাতে এসে, শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে টানা পাঁচ ঘণ্টা প্রতীক্ষায় মা!
চরম অমানবিকতার নিদর্শন দেখা গেলো গতকাল বিকালেশা ন্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে, শান্তিপুর থানা এলাকার একটি মেয়ের শ্রীলতাহানির মেডিকেল করাতে তার মা পুলিশের সাথে বিকেল চারটে নাগাদ শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছায়। সেখানে 24 ঘন্টা কর্তব্যরত গাইনোকোলজিস্ট ডক্টর সৈকত সরকারের সাথে তাদের কথাও হয়! কিন্তু ডাক্তারবাবু একটু অপেক্ষা করতে বলেন। সেই একটু যে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা অতিক্রান্ত করবে তা জানতেন না তারা। শ্লীলতাহানীর মতন একটি বিষয়ে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই মেয়ের মা দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন সারাদিন না খেয়ে থাকা এবং মানসিক দুশ্চিন্তার কারণে। আমরা এই সময়ে খোঁজ নিই , এবং জানতে পারি শুধু কৃষ্ণনগরে একটি ঔষধের দোকানে গাইনোকোলজিস্ট ডাক্তার বাবু প্রাইভেট প্র্যাকটিস ব্যস্ত ছিলেন!
অবশেষে রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ, আমাদের ক্যামেরার সামনে নির্যাতিতা পরিবারের দাবি অনুযায়ী, কোথায় ছিলেন ডাক্তারবাবুর এতক্ষণ! এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি, এমনকি তিনি বলেন, এটা কোনো অসুস্থতা নয়, মেডিকেল চেকআপ মাত্র।
এরপর আমরা জানতে চাই শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপারেন্টেন্ড ডক্টর তারক বর্মনের কাছে। তিনি এ বিষয়ে অবহিত আছেন বলেই জানান আমাদের, এবং 24 ঘন্টা ডিউটি থাকা সত্ত্বেও, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে দীর্ঘক্ষন বাইরে থাকার শাস্তি তিনি পাবেন বলে জানান আমাদের।
শুধু করোনা পরিস্থিতিতে বলে নয়! ডাক্তার সর্বদা ভগবান তুল্য, তারা আমাদের রক্ষাকর্তা, নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের খেয়াল রেখে চলেন! কিন্তু এইরকম কাণ্ডজ্ঞানহীন কিছু ডাক্তার বাবুর জন্য আজ এই মহান পরিষেবা দেওয়া ভগবানরুপি সমগ্র ডাক্তার বাবুদের দিকে আঙুল তুলছেন রোগীর পরিবার।