প্রাতঃভ্রমণ বন্ধ রেখে, কাকভোরে রাস্তায় জমাজল, নিষ্কাশনে বালতি হাতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন পাড়ার পড়ুয়ামেয়েরাই

মলয় দে নদীয়া :-বিগত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাস্তায় জমে থাকা জল নিষ্কাশনে হেলদোল নেই কারও।আর তাই, সেই জল নিষ্কাশনের কাজে কোমর বেঁধে নেমে পড়ল বেশ কয়েকজন স্কুল ,কলেজের ছাত্রী। বাড়ি থেকে বালতি নিয়ে এসে দুদিন ধরে তারা সেই জল নিষ্কাশন করে ফেলেন।কারও ভুল ত্রুটির দিকে আঙুল না তুলে ভোরের আগেই ঘুম থেকে উঠে সূর্য ওঠার আগে হাতে হাতে কয়েকশ বালতি জল তুলে ফেলে দিয়েছেন অন্যত্র। বুধবার সকালে নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের বাগআঁচড়া বাজারপাড়া এলাকায় কয়েকজন স্কুল কলেজের ছাত্রীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানও।মূলত বাগআঁচড়া -ভালুকা রোডের বাজারপাড়া এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায়। যদিও সাম্প্রতিককালে কাঁচা রাস্তা থেকে পাকা রাস্তা হওয়ার পর জল নিকাশীর জন্য ড্রেনের বরাদ্দ হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীদের বাধায় শেষপর্যন্ত ড্রেন করা সম্ভব হয়নি।ফলে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ওই রাস্তার বেশ কিছুটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে।হাটুর নিচু সমান জল পারাপার করেই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে। কাছেই তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বাগআঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েত।পঞ্চায়েত প্রধান থেকে পঞ্চায়েত সদস্যদেরও সেই জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।জল পেরিয়ে যাচ্ছে গাড়ি -ঘোড়াও। অথচ সেই জল নিষ্কাশনের উদ্যোগ দেখতে পাননি এলাকার মানুষ। ওই এলাকার বাসিন্দা এম এ পাঠরতা তনুশ্রী,মামনি, বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী কাকলি,সুজাতা,রিয়া, নবম শ্রেণীর ছাত্রী প্রিয়া, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী সৃজাদের কিন্তু বিষয়টি ভালো লাগেনি।তারা প্রতিদিন মর্নিংওয়াকে বেরোয়।প্রতিদিনই সেই জল পেড়িয়েই তাদের যেতে হচ্ছিল।কাকলি,তনুশ্রীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, আপাতত মর্নিংওয়াক বন্ধ রেখে নিজেরাই জল নিষ্কাশনের কাজে হাত লাগাবে। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। বুধবার ভোর তিনটে নাগাদ ঘুম থেকে উঠে বাড়ি থেকে বালতি নিয়ে কাকলি,তনুশ্রী,মামনিরা লেগে পড়েন জল নিষ্কাশনের কাজে।ছোট্ট একটি বালতি নিয়ে দিদিদের সঙ্গে হাত লাগায় সৃজাও। ভোরের সূর্য ওঠার আগেই প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বালতি বালতি জল তুলে নিয়ে গিয়ে পাশের একটি গর্তে ফেলে দেয়।মঙ্গলবার ভোরেও তারা একইভাবে জল নিষ্কাশন করেছিল।অবশ্য দিনের আলোতে তারা এই কাজ করতে কখনই চায়নি। কারণ, বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকম প্রশ্নের জবাব দিতে তারা রাজি নয়। মূলত কাজকে ভালোবেসেই তাদের এই ভাবনা।কারও ভুল-ত্রুটি ধরানোর ইচ্ছা তাদের নেই।রিয়া, প্রিয়া, তনুশ্রী, মামনি,সৃজাদের এমন কাজের সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান মমতা ধর।তিনি জানিয়েছেন,’ পাকা রাস্তা তৈরির সঙ্গে ড্রেনেরও বরাদ্দ হয়েছিল।কিন্তু এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে সেই ড্রেন করতে বাধা দেয়। যদিও বিষয়টা আমি ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদ সহ প্রশাসনের সর্বস্তরে জানিয়েছি।আবেদন করা হয়েছে,অবিলম্বে যেন ড্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে আমাদের এলাকার কয়েকটি মেয়ে জল নিষ্কাশনের জন্য যা করেছে, তাতে তাদের সাধুবাদ জানাতেই হয়।’ যদিও আবারও বৃষ্টি হলে আবারও জমে যাবে জল, সেক্ষেত্রে কি হবে?না, তনুশ্রী,মামনিরা কিন্তু থেমে থাকবে না। তারা জানিয়ে দিয়েছেন,’ আবারও তারা বালতি হাতে নেমে জল নিষ্কাশন করবেন।’