মলয় দে নদিয়া :
জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা দশমী দশো হারা বলে । এই তিথিতে পূর্ব জন্মের দশটি পাপ এবং এ জন্মের দশটি পাপ হরণ করে । দশটি পাপের তালিকায় যে অবৈধ কর্মের উল্লেখ রয়েছে , তাতে অপরাধ ও পাপ বোধ একসাথে মিশে রয়েছে । সনাতন ধর্ম শাস্ত্র বলছে শুভ কাজে শুভ কর্মের বিনাশ ,পুণ্য কর্মে পাপের খয় হয় । যোগ , যাগ যজ্ঞ , পূজা অর্চনা , ব্রত , নিয়ম সব পাপের ই বিনাশ করে — দশ পাপ হারা দ শো হারা এমনি পুণ্য তিথি বলে দাবি করেন ভক্তবৃন্দরা।
আগামী কাল গঙ্গা পুজো ,অর্থাৎ যাকে এক কথায় বলে দশোহারা । কিছু মৃৎ শিল্পালয়ে তুলির শেষ টানে চলছে মাতৃ মূর্তি তৈরির অন্তিম প্রস্তুতি । আবার কোথাও চলছে মাতৃ অঙ্গে শাড়ি পরিধান ও সাজ সজ্জার পর্ব । তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে বিগত বছর থেকেই এই পুজোর জৌলুস কমেছে । মূলত গঙ্গার চড় অঞ্চলে এই পুজোর ঘনঘটা অতি প্রাচীন কাল থেকেই বিরাজমান । এই পার্বণ বা উৎসব গঙ্গার তীরবর্তী মানুষের এক বিশেষ উৎসব হিসাবে সুপরিচিত । গঙ্গা পুজো কেন্দ্র করে সেখানে বসে বিভিন্ন দোকানের স্টল বা মেলা । করণা পরিস্থিতিতে এ বছর সবটাই নমো নমো!
কিন্তু সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন মৃৎশিল্পীরা! পুজোর অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই শেষ লগ্নে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কাজের পরিস্থিতি ভালো নয় দেখে তা অর্ডারও নিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। কিন্তু লাগাতার একনাগাড়ে বৃষ্টি, হতাশ করেছে তাদের। মৃৎশিল্পীরা জানান পুজো উদ্যোক্তাদের মুখ রাখতে, কাঁচা মাটির মূর্তি শুকাতে ব্লো লাইট যথেষ্ট নয়! তাই বাধ্য হয়ে তিন এরমধ্যে কাঠের আগুন করে তা দিয়ে শুকানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এতে অবশ্য ভাবাবেগের বা ভক্তির কোনো ঘাটতি পড়বে না বলেই মনে করেন তারা। কারণ হিসাবে বলেন, মূর্তির চোখ দানের আগে সেটা থাকে নিছকই কাদামাটি। এরপর ব্রাহ্মণের পুজোর মাধ্যমে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় তাতে।

