1 853 সালে থেকে চলে আসা, শান্তিপুর পৌরসভা সময়ের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দ্বিতীয়প্রাচীন । বিভিন্ন সময়ে বাম ডান নানান রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা হস্তান্তরের মাঝে, অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব পৌরসভার দায়িত্বে থাকলেও আমৃত্যু টানা ত্রিশ বছর একনাগাড়ে শান্তিপুরের পৌরসভার দায়িত্বে থেকে নজির করেছেন অজয় দে।
তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে, নেতৃত্বর শূন্যস্থান পূরণ করতে জেলা বা রাজ্য পৌঁছেছেন অনেকেই! সুবিধাবাদী বেশকিছু মানুষ, ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন।
সদ্য বিধানসভা নির্বাচনে, দলেরই অন্তর্ঘাতে হেরেছে অজয় দে এমনটাই মনে করছেন দলের একাংশ। তবে অন্য অংশের মত, শান্তিপুর শহরের 24 টি ওয়ার্ডের দুটি বাদে সবকটা ওয়ার্ডেই তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন, গত এক বছর আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে পর্যন্ত! সরকারি দু-একটি প্রকল্প যার মধ্যে অন্যতম আবাস যোজনায় ব্যাপক স্বজনপোষণ এবং আর্থিক দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসে। আর তারই ফলে। শান্তিপুর শহরেও অর্ধেক ওয়ার্ডেই তৃণমূল বিজেপির কাছে পরাজিত হয় সদ্যসমাপ্ত হওয়া বিধানসভায়। তার মৃত্যুর পর
রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ভাবে অসহায় হয়ে পড়ে শান্তিপুর। প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য্য তৃণমূল করাকালীন অরিন্দম ঘনিষ্ঠরা কেউই তেমন বিজেপিতে যোগদান করেননি। অরিন্দম বিজেপিতে চলে যাওয়ার পর তার সাথে দল করা একটা বড় অংশ , পুরনো দিনের রাজনৈতিক অভিভাবক একসময়ের নদীয়া জেলা সভাপতি, রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, এবং জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্রর সাথে ঘনিষ্ঠ বাড়ায়।
অপরদিকে অজয় দে র ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরা , একটা অংশ গেলেন আর এক নেতৃত্ব শংকর সিং এর কাছে। ব্লকের পুরো ভাগ এবং শহরের ছোট্ট একটি অংশ নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন নদীয়া জেলার সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডুর সাথে। তবে অতি শীঘ্রই শান্তিপুরের প্রশাসক বদল হতে চলেছে, বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা যায়, সরকারি এক্সিকিউটিভ এর বদলে খুব সম্ভবত এসডিও প্রশাসক হতে চলেছেন তবে এক্ষেত্রে একটা পরামর্শদাতা কমিটি গঠিত হতে পারে তবে সে ক্ষেত্রে যে কাউন্সিলর বাদে কেউ থাকবেন না এমনটা নয়!
আর এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই, প্রধানমন্ত্রী গৃহ আবাস যোজনার কিছু গৃহ এসে পৌঁছেছে! শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অরবিন্দ মৈত্র গতকাল দলীয় উচ্চ নেতৃত্ব, এবং রানাঘাট মহাকুমার প্রশাসকের কাছে দলেরই বেশকিছু দুর্নীতি পরায়ন, এবং আর্থিক কেলেঙ্কারি যুক্ত কাউন্সিলরদের জন্য ভাবমূর্তি ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার মতে মুখ্যমন্ত্রী বা তৃণমূলের প্রতি আপামর শান্তিপুর বাসীর আনুগত্য থাকলেও , কিছু কাউন্সিলারের ব্যক্তিগত অপকর্মের খেসারত দিতে হচ্ছে দলকে! স্যার অসমঞ্জ দে র সময় থেকে ছাত্র রাজনীতি করে আসার কারণে , দলের শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। নতুন করে স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা হোক।
এ বিষয়ে, সি আইএম এরিয়া কমিটি সম্পাদক এবং পৌরসভার বিরোধী দলনেতা সৌমেন মাহাতো জানান, প্রতিবার বিভিন্ন ডেপুটেশনের এর মধ্যে গৃহ প্রদানের আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছি আমরা। আমিও একজন প্রাক্তন কাউন্সিলার ,
আজও জানাচ্ছি, সরকারি তত্ত্বাবধানে সঠিক অনুসন্ধান করা হোক, দলীয় নেতৃত্ব বা মেয়াদ উত্তীর্ণ কাউন্সিলর দিয়ে নয়।
সংসদ জগন্নাথ সরকার জানান, অনলাইনে আবেদন করেছেন অনেকেই, তাদের আবেদন গুরুত্ব না দিয়ে, আজ থেকে 2 বছর আগে টাকা নিয়ে রাখা কিছু কাউন্সিলর চাইছেন এ যাত্রায় বিপদগঙ্গা পার হতে, কিন্তু আমি পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং এসডিও সাহেবকে স্পষ্ট জানিয়ে এসেছি, সাধারণ গৃহহীন মানুষ বঞ্চিত হলে, সরাসরি আন্দোলনে নামব আমরা।
অন্যদিকে একেবারে গোড়ার দিক থেকে তৃণমূল করে এসেও বরাবরের জন্য ব্রাত্য থাকা, শঙ্করীপ্রসাদ ভট্টাচার্য, জ্ঞান প্রামাণিকরা জানান, আগামী উপনির্বাচনে প্রার্থী হোক বা পৌরসভার প্রশাসক যোগ্য নেতৃত্ব বা সুদক্ষ প্রশাসক নেই শান্তিপুরে, তাই রাজ্য কমিটির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

