নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জে, সেনাবাহিনীর কমান্ডোর উদ্যোগে আদিবাসী পরিবারের মেয়ের চিকিৎসা, এবং বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা

টাকার অভাবে চিকিৎসা না করতে পারায় দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতেই পড়ে ছিল আদিবাসী পরিবারের মেয়ে,অবশেষে ভারতীয় সেনা জওয়ান এর সহযোগিতায় চিকিৎসা পেল ওই মেয়ে।শুধু তাই নয় দীর্ঘ 25 বছর পর বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ করল বিএসএফ কর্মীরাই। নদিয়ার কৃষ্ণ গঞ্জের ভজন ঘাট টুঙ্গী গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম নোনা গঞ্জ।গ্রামটিতে মূলত আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের বসবাস। এই গ্রামে বাস করেন জগন্নাথ মল্লিক (62)পেশায় দিনমজুর।লকডাউনের ফলে তেমনভাবে কাজ নেই।সংসারে চার মেয়ে,স্বামী স্ত্রী গতবছর লকডাউন এর সময় বড়ো মেয়ে মারা যান অসুখে।বর্তমানে তিন মেয়ে স্বামী স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন জগন্নাথ বাবু।ঠিকভাবে কাজ না থাকায় পরিবারে দু বেলা খাবার জোটে না তাদের।অভাবী সংসার তার ওপর মেজো মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।ঔষধ কেনার টাকা না থাকায় চিকিৎসক দেখানো সম্ভব হয়নি।তার ওপর তিন দিন বাড়িতে খাদ্যের অভাব।প্রতিবেশীদের কাছে ছুটে যান জগন্নাথ বাবু, কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি।গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি।হতাশা বুকে বেধে নিয়ে ফিরতে হয়েছে।আর মেয়েকে মুত্যু র মুখে ঠেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন জগন্নাথ বাবু।তিনদিন অনাহারে থাকার পর অসুস্থ মেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন।বাবা হয়ে মেয়ের মুখে খাদ্য ঔষধ তুলে দিতে না পেরে চোখের জলে বুক ভাষান।অসহায় বাবা মায়ের কান্না শুনে চুপ থাকতে পারেননি পাহারারত BSF। ছুটে এসে কোম্পানির কমান্ডার YRYAMBAK PANDEY কে ঘটনা জানান।সঙ্গে সঙ্গে কমান্ডার BSF কর্মীদের অসুস্থ মেয়ে কে নিজেদের গাড়ি করে কৃষ্ণ গঞ্জে গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।সাথে ঔষধ খাবার চিকিৎসার খরচ নগদ সহ এম্বুলেন্স ভাড়া পর্যন্ত দিয়ে দেই BSF। ফলে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে পায় মেয়েকে জগন্নাথ বাবু।মেয়েকে ফিরে পেয়ে BSF কে ধন্যবাদ জানান অসহায় বাবা।চার দিন জেলা হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর মেয়ে কে বাড়ি অনেন জগন্নাথ বাবু।চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।আর রোগীর যাতে গরম না লাগে সেদিকে নজর দিতে হবে।সমস্ত খরচ, খাবার BSF করলেও গরম ভাব কতদিন কিভাবে? চিন্তায় পড়ে যায় কর্মীরা।শেষ পর্যন্ত জগন্নাথ বাবুর মেয়েকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন নোনা গঞ্জ BSF এর 8নম্বর ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার।তড়িঘড়ি বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে জগন্নাথ বাবুর বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিলেন।বাড়িতে জ্বললো আলো সাথে সাথে নতুন পাখা কিনে বাড়িতে হাওয়ার ব্যাবস্থা করলো BSF। মানবতার আরেক নজির গড়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলো BSF। সবাই BSF এর এই কাজকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।আমরাও এহেন কাজের জন্য কুর্নিশ জানায় BSF কে।