স্বদেশে বাঙালি, আর প্রবাসী বাঙালির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। শিক্ষা বা জীবিকার কারণে সে সময়ের বিলেত যাত্রার পর, অনেকেই পাকাপাকি বসবাসের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন! হয়েছেন প্রবাসী! তবে বাঙালিয়ানায় এতোটুকু ঘাটতি পরেনি, কখনো। বরং স্বভাবসিদ্ধ ভাবে জন্মভূমির আবেগে গায়ে পড়ে আলাপ সেরে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেরা ক্রমশ হয়েছেন ঐক্যবদ্ধ। রবীন্দ্রজয়ন্তী, দুর্গাপুজো, পহেলা বৈশাখ, এমনকি স্বাধীনতা দিবসের মতন বিশেষ দিনে সকলে সমবেত হয়ে নাচ গান আবৃত্তি লেখা নিয়ে উপস্থাপিত হত নিজেদের মধ্যে।
1974 সালের নিউ ইয়র্কের, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ পাওয়া যায়, কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল গঠনের। 6 বছরের জন্য সভাপতি ও বঙ্গ সম্মেলনে চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তায় প্রবীর রায়ের ওপর। একদিকে সংগঠন বৃদ্ধি অন্যদিকে, বিভিন্ন স্কুল কলেজ বিদ্যালয়ে বাংলা শেখানোর প্রয়াস, সপ্তাহে একদিন রবিবার বিভিন্ন পেশায় কর্মরতদের বাংলা চর্চা, এবং পাক্ষিক একটি সংবাদপত্র নিয়মিত প্রকাশনার মধ্য দিয়ে ক্রমাগত সকলকে সংগঠিত করেন প্রবীর বাবু। ভারতের একটি প্রথম সারির বহুল প্রচলিত বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে এন এ বি সি র কর্মকর্তা প্রবীর রায়ের একটি লেখা থেকে জানা যায়,
1981 সালের প্রথম সম্মেলন হয় নিউ ইয়র্কের টরেন্টো, বস্টন, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড থেকে আগত প্রবাসী 265 জন বাঙালি 5 ডলারের টিকিট কেটে কুইন্স শহরের একটি বিদ্যালয় একটি ছাদের তলায় আসেন। কলকাতা থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় পৌঁছেছিলেন তাদের অনুপ্রেরণা যোগাতে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এই অনুষ্ঠান। 1982 সালের নিউ ইয়র্কে উপেন্দ্রকিশোর মল্লিক এবং স্বামী অভয়ানন্দজীর উপস্থিতিতে এক লাফে দর্শক সংখ্যা বেড়ে যায় 500 র বেশি। আলী আকবর খান, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ,সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, পণ্ডিত রবিশঙ্কর, পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত থাকাকালীন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেন, সৌরভ গাঙ্গুলী, রসিক সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ, গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী রাখি গুলজার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থাকাকালীন প্রণব মুখোপাধ্যায়, আমজাদ আলী খান শ্রেয়া ঘোষাল সহ বহুগুনীজন অনুপ্রেরণা যোগাতে ছুটে গিয়েছিলেন আমেরিকাতে। বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অমিত মিত্র, সুগতা বসু ,কৃষ্ণা বসুরাও গিয়েছেন।
তবে 1995 সালের 15 বছরের পূর্তিতে, বিজনেস কনফারেন্সে চালু হলো পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু রাষ্ট্রদূত সিদ্ধার্থ শংকর রায় লোকসভার অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় মৎস্যমন্ত্রী কিরণময়ী নন্দ সাথে এক ঝাঁক শিল্পপতি! প্রায় 8 হাজার বাঙালি তিনদিন ধরে মেতে উঠেছিল সেবার।
আরেকটি বিশেষ সাল হলো “দু হাজার” দুই শতাব্দী সন্ধিক্ষণে কলকাতা এবং হাওড়ায় 13 দিন ধরে 745 জন শিল্পীর সমাহার দেখতে দেড় লাখ দর্শক ভিড় করেছিলেন।
তবে এখন শুধু আমেরিকা নয় সারা বিশ্ববাসীর কাছে বঙ্গ সম্মেলন অন্য এক মাত্রা পেয়েছে। কিন্তু গত বছরে করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারেও তাই!
তবে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, এবছর গায়ক অমিত কুমার, ভাষ্যকার সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের, হাস্যরসে দুর্নিবার, ক্যাকটাস ব্যান্ড, ব্রততী বন্দোপাধ্যায়, হৈমন্তী শুক্লা থাকতে পারেন ভার্চুয়াল ভাবে। 26 ডলার টিকিটে দর্শক হিসেবে থাকতে পারেন আপনিও। যতদূর জানা যায় নদীয়ার কৃষ্ণনগর থেকে ক্লাসিক্যাল গায়ক হিসেবে সন্দীপ ভট্টাচার্য্য ছিলেন কোনো একটি বছরে । আর এ বছর! জুলাই মাসের দুই তিন এবং চার তারিখ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভার্চুয়াল ভাবে।অত্যন্ত আনন্দের কথা নদীয়ার শান্তিপুর থেকে থাকছেন বাচিক শিল্পী অনুপম সরকার, ভানু বন্দোপাধ্যায়ের কন্ঠে করোনা সতর্কতায় প্রবাসী বিশ্ববাসী বাঙালির কাছে বাংলা ভাষার বিনোদনের মাধ্যমে সচেতনতা বার্তা প্রেরক হিসেবে অনুপম বাবু কে আহবান জানিয়েছেন তারা। মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার সম্পর্কিত চারটি রম্যরস পরিবেশন করতে চলেছেন তিনি।

