কেন্দ্রীয় বঞ্চনা থাকলেও এবার তাঁত শিল্পীদের জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। তাতেই খুশি তাঁত শিল্পীরা।
কেন্দ্রীয় সরকার কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার তাঁত এবং তন্তুজীবীদের জন্য কোনো ভাবনাই ভাবেনি। তবে রাজ্যসরকার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে তাঁত শিল্পীদের জন্য। এবার তাঁতশিল্পীদের
২০২৪-২৫ আর্থিক বর্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ এবং বস্ত্র দপ্তর বাংলার হস্ত তাঁতশিল্পী ও খাদি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত তাঁতশিল্পীদের বিশেষ সহায়তা প্রদানের জন্য প্রকল্পর ঘোষণা করেছে।
১) পশ্চিমবঙ্গ হস্ত তাঁতশিল্প ও খাদি শিল্পে যুক্ত তাঁতশিল্পীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্প
সুবিধা গুলো শর্তসাপেক্ষে পেতে পারেন :
i) PWCS : এককালীন কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ঋণ মুকুব এককালীন আর্থিক সহায়তা ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
iii) PWCS এবং একক তাঁতশিল্পী (10%) ভর্তুকিযুক্ত সুতো ক্রয় করতে পারবেন তন্তুজের (Yarn) ইয়ান ব্যাঙ্ক থেকে।
iv) একক তাঁতশিল্পীরা ভর্তুকিযুক্ত ১০,০০০ টাকা মূল্যের কটন/ সিল্ক / লিনেন সূতা তাদের তাঁতে ব্যবহারের জন্য তন্তুজের থেকে সংগ্রহ
করতে পারবেন।
এ ছাড়াও একক তাঁতশিল্পীরা তাদের তাঁতঘর মেরামতি বা সংস্কারের জন্য এবং তাঁত সরঞ্জাম ক্রয় করার জন্য এককালীন ৫০০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান পেতে
পারেন।
২) হস্ত তাঁতশিল্পী ও শিল্পে নিযুক্ত হাতে প্রস্তুতকারী দক্ষ কারিগরদের মরণোত্তর সাহায্য / সহায়তা প্রকল্প : ৬০ বছরের কম বয়স্ক তাঁতশিল্পী এবং কারিগরের অকালমৃত্যু হলে তাঁর পরিবার এককালীন ২ লক্ষ টাকা সাহায্য পেতে পারেন।
৩) তাঁতশিল্পীদের জন্য ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রকের সহায়তায় বিশেষ “ মুদ্রা প্ৰকল্প।
এই প্রকল্প গুলির জন্য এখন অনেকটাই খুশি বাংলা তথা নদীয়ার শান্তিপুরের তাঁত শিল্পলিরা। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার কে তারাও আবেদন রেখেছেন রাজ্য যেমন মুখ তুলে চেয়েছে তাঁত শিল্পদের দের জন্য তেমন তারাও পাশে দাঁড়াক তাঁত শিল্পী দের এবং এই শিল্প কে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করুক। যদিও এ প্রসঙ্গে সারা বাংলা তৃণমূল তাঁত শ্রম শ্রমিক ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি সনদ চক্রবর্তী বলেন, এ রাজ্যের যে সমস্ত জায়গা গুলি এখনো পর্যন্ত তাঁত শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ, সেসব তাঁতিদের এখন পরিস্থিতি খুবই তলানিতে। প্রায় ধ্বংসের মুখে যেতে চলেছে তাঁত শিল্প, ঠিক তেমনি নদীয়ার শান্তিপুরেরও একই অবস্থা। যদিও তাঁতিদের এই দুর্দশার কথা চিন্তা করে মাসখানিক আগে করা হয়েছিল একাধিক ক্যাম্প, সেখানে সংগ্রহ করা হয়েছিল তাঁতিদের কথোপকথন এবং তাদের চাওয়া পাওয়া। এই সমস্ত টাই জমা দেয়া হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে, তারপর এই তাঁত শিল্পকে বাঁচানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে রাজ্য সরকার, এরপর বিধানসভার অধিবেশনের বাজেট পেশ হওয়ার সময় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন এই শিল্পের জন্য। তবে এখন দেখার রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের পরে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি শান্তিপুরের ঐতিহ্য প্রসিদ্ধ তাঁত শিল্প। নদীয়া থেকে জগন্নাথ মন্ডলের রিপোর্ট

