সর্বভারতীয় সভাপতিকে নিয়ে এসে মাস্টারস্ট্রোক দেওয়ার চেষ্টায় কাজ হল না। রবিবার দুপুরে মতুয়া অধ্যুষিত রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার বগুলায় বিজেপির জনসভায় মেরেকেটে আড়াই হাজার কর্মী সমর্থক হাজির হয়েছিলেন। জেপি নাড্ডার প্রায় বাইশ মিনিটের বক্তৃতা আমজনতার মনও ছুঁতে পারল না। নাগরিকত্ব নিয়ে তিনি একটিও শব্দ খরচ না করায় রীতিমতো হতাশ সভায় হাজির মতুয়ারা।
বিজেপির জেলা নেতৃত্বের দাবি ছিল, জেপি নাড্ডার এদিনের সভা কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভিড়ে ছেয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। রানাঘাট কেন্দ্রের প্রার্থী জগন্নাথ সরকারের পাশাপাশি চার বিধায়ক, জেলা সভাপতি এদিন নাড্ডা বরণের দায়িত্বে নিয়েছিলেন। বাস্তবে দেখা গেল, হাঁসখালি, শান্তিপুর, কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট, নবদ্বীপ সহ বিভিন্ন বিধানসভা এলাকা থেকে বিজেপির পতাকা লাগানো বহু বাস বগুলায় এলেও তার বেশিরভাগই ছিল অর্ধেক ভর্তি। নাড্ডার সভাস্থলেও সে অর্থে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল না। বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকার, নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বক্তৃতার পরেই মঞ্চে প্রায় ২২ মিনিট বক্তব্য রাখেন জে পি নাড্ডা। অথচ সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী সমর্থক তো বটেই, সাধারণ মানুষের একাংশের বোধগম্যই হয়নি নাড্ডাজির হিন্দি ভাষণ। রানাঘাটের বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে জে নাড্ডার সভায় এদিন মতুয়া জমায়েত কতটা হতে পারে, সেদিকেই নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। ডঙ্কা, কাঁসর, নিশান নিয়ে বিজেপির সভায় মতুয়াদের উপস্থিতি দেখা গেলেও তা চোখে পড়ার মতো ছিল না। সর্বোপরি এদিনের বক্তব্যে একটিবারের জন্যেও নাগরিকত্ব কিংবা মতুয়া বাসিন্দাদের নিয়ে কথা বলেননি নাড্ডা। এতে রীতিমতো হতাশ হয়েছেন মতুয়ারা। হতাশ হয়েছেন কর্মী সমর্থকদের একাংশও। তাঁরা বলেন, নাগরিকত্ব আইন চালু হওয়ার পর থেকে দলীয় প্রার্থীর হয়ে গ্রামেগঞ্জে প্রচারে গিয়ে বাসিন্দাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। আমরা আশা করেছিলাম, সর্বভারতীয় সভাপতির বক্তব্য থেকে মতুয়াদের মধ্যে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রচারের রসদ পাওয়া যাবে। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না। দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ সভা শেষ হতেই সেখান থেকে বেরিয়ে এসে মতুয়াদের একাংশ বলেন, বিজেপি নেতারা তো আমাদের বাড়িতে এসে নিশ্চিন্তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে বলছেন। কিন্তু তাঁদের সর্বভারতীয় সভাপতি তো একটিও কথা খরচ করলেন না। তাহলে কি নাগরিকত্ব আইনেই আমাদের নাগরিক হওয়ার অধিকার হারাতে হবে?
রবিবার জে পি নাড্ডার বক্তব্যের সিংহভাগই ছিল বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে প্রচার এবং দুর্নীতি ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ। তৃণমূলকে আক্রমণ করতে গিয়ে বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পের নামও গুলিয়ে ফেলেন তিনি। পরে অবশ্য মঞ্চে উপস্থিত দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে ভুল শুধরে দেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, প্রাদেশিক কায়দায় বাংলার শাসকদলকে আক্রমণ করে বিজেপি বিশেষ জুত করতে পারছে না। সভামঞ্চ গরম করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তাঁর বক্তব্যে ঝাঁজ তুললেন বটে, কিন্তু তা মানুষের মন ছুঁল কই? বিজেপির এদিনের সভাকে ফ্লপ শো বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। রানাঘাট সংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, একশো দিনের কাজের বকেয়া টাকা, আবাস যোজনার টাকা বন্ধ রেখে বিজেপি বড় বড় ভাষণ দিচ্ছে। বিজেপির এদিনের সভাতেও বহু গরিব মানুষ সমর্থক হিসেবে গিয়েছেন, যাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় না দেখেই বকেয়া টাকা মিটিয়েছে এ রাজ্যের সরকার। বিজেপি যত ইচ্ছে প্রচারে পরিযায়ী পাখি নিয়ে আসুক। রানাঘাট কেন্দ্রের মানুষ তৃণমূলের সঙ্গেই আছে।

