সাইবার অপরাধ জগতে নয়া মোডাস অপারেন্ডির খোঁজ পেল পুলিস। এবার খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (আইফোর-সি) সিইও’র নামে ভুয়ো মেল করে প্রতারণার ফন্দি আঁটছে ডার্ক ওয়ার্ল্ড।
মেলের ‘সাবজেক্ট’-এ লেখা থাকছে, ‘কোর্ট অর্ডার’। ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের সিইও রাজেশ কুমার এই মেলের প্রেরক। বিষয়বস্তুতে লেখা রয়েছে, ‘আপনি পর্নোগ্রাফি সাইটে ঢুকেছিলেন। সার্ভার থেকে আমরা সেই তথ্য পেয়েছি। সেখানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিষিদ্ধ ভিডিও দেখেছেন আপনি। ফলে সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে আপনি যুক্ত হয়ে গিয়েছেন। সেকারণে আপনার মোবাইলের যাবতীয় তথ্য ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের তরফে ডিলিট করা হচ্ছে। ফোনে থাকা ব্রাউজার হিস্ট্রি, ছবি, ভিডিও, হার্ড ডিস্কে থাকা সবকিছুই ডিলিট করে দেওয়া হবে। আপনি মেল পেয়ে থাকলে দ্রুত যোগাযোগ করুন। অন্যথায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পুলিস আপনার বাড়িতে পৌঁছে যাবে।’ এই মেলের সঙ্গেই যুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে আরেকটি মেল আইডি।
কলকাতা পুলিসের দাবি, ইতিমধ্যেই শহরের বেশ কিছু মানুষের কাছে এই মেল গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তার মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণার কোনও খবর নেই। যদিও লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগের দাবি, এই মেল সম্পূর্ণভাবে ভুয়ো ও ভিত্তিহীন। ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের তরফে এমন কোনও মেল পাঠানো হয়নি। এটি আদতে প্রতারকদের নয়া ছক। যার মাধ্যমে আম জনতার সঞ্চিত টাকা লুট করাই উদ্দেশ্য জালিয়াতদের। এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উদ্যোগে ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার বা আইফোর-সি নামে একটি সংস্থা তৈরি করা হয়েছে। যেখানে দেশের সমস্ত পুলিস এজেন্সি তাদের নিজ নিজ জায়গায় রুজু হওয়া সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার খতিয়ান তুলে ধরে। সেই সংস্থাকেই এবার হাতিয়ার করছে প্রতারকরা। বিশ্বাসযোগ্যতা আদায়ের জন্যই এমন চেষ্টা বলে দাবি লালবাজারের কর্তাদের।
কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনার (সাইবার) অভিষেক মোদি এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, শুধু ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের নাম উল্লেখ করে প্রতারণার চেষ্টা হচ্ছে, তা নয়। সিবিআই ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) কিংবা অন্যান্য এজেন্সির নাম করে এই মেল যাচ্ছে প্রতারকদের কাছে। এ নিয়ে কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দাপ্রধান সৈয়দ ওয়াকার রাজা বলেন, কোনও অপরিচিত মেলের জবাব দেবেন না। কোনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মেসেজ বা মেল এলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কখনও ভার্চুয়াল মাধ্যমে গ্রেপ্তারির নোটিস বা পরোয়ানা পাঠানো হয় না

