বিধবাভাতা,বাদ্ধক্যভাতা,মানবিকভাতা সহ একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী প্রকল্প গ্রামের দুঃস্থ মহিলাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। সেই ভাতার টাকা ফেরৎ চেয়ে নোটিস করলেন মালদা জেলার কালিয়াচক ১নং ব্লকের বিডিও। একজন বা দুই মহিলাকে নয়। একসঙ্গে ৭০০জন দুঃস্থ মহিলারা হাতে এমনই চিঠি পেলেন। আর তাতেই চক্ষুচড়ক গাছ তাদের। সরকারি নিয়ম বর্হিভূতভাবে সরকারি প্রকল্পের টাকা দুঃস্থ মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেছে বলে ব্লক প্রশাসনিক আধিকারিক দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।নোটিসে জানানো হয়েছে সাতদিনের মধ্যে টাকা ফেরৎ না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন চিঠি হাতে পেয়ে দুঃশ্চিন্তার প্রহর গুনছেন ৭০-৭৫বছরের বৃদ্ধা বিধবা মহিলারা। কোন বৃদ্ধা দুঃস্থ মহিলাকে ১৯হাজার,আবার কাউকে ২৫হাজার টাকা ফেরৎ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে জেলাশাসক মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে প্রশাসনিক দপ্তরের সূত্রে থেকেয় জানা গেছে লকডাউনের সময় গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি থেকে ঢালাও নাম পাঠানো হয়েছিল। নথিপত্র, বয়স-সহ কোনও তথ্য যাচাই করা হয়নি। একই উপভোক্তার নামে বিধবা ভাতা, বার্ধক্যভাতা, মানবিক ভাতা দেওয়া হয়েছে। যা সরকারি আইন মেনে করা হয়নি। এতে গোটা ব্লকে সামাজিক ভাতা প্রকল্পের প্রায় দু’কোটি টাকা গড়মিল হয়েছে। এখন সেই টাকা ফেরত পেতে মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছেন কালিয়াচকের বিডিও। এই ব্লকের মোজমপুর, গয়েশবাড়ি, যদুপুর, সিলামপুর, আলিপুর, সুজাপুর, জালুয়াবাধাল, জালালপুর-সহ ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৭০০ জন উপভোক্তার বাড়িতে নোটিশ পাঠিয়ে টাকা ফেরত চেয়েছেন বিডিও। মঞ্জুলা বেওয়া,মানোয়ারা বিবি,শানোয়ার বেওয়ারা জানান এই টাকা দিয়ে তাদের জীবনের নানা ব্যাধির চিকিৎসা করতাম। ঔষধ কিনতাম।এখন শরীরে জোর নেই। কাজ করতে পারি না। কি করে এই টাকা ফেরৎ দিব জানি না। আমরা অতিরিক্ত টাকা পাই নি। তাই দুঃশ্চিন্তা ও আতঙ্কে রয়েছি। এই টাকা ফেরৎ দিতে পারবো না। সামর্থ্য নেই। কালিয়াচক ১নং ব্লকের গয়েশবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের স্বামী কামাল হোসেন জানান এমন চিঠির ফলে গ্রামের দুঃস্থ মহিলারা দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের সামর্থ্য নেই টাকা ফেরৎ দেওয়ার। সম্প্রতি পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন হয়েছে। ফলে তাদের কাছেও তথ্য সঠিক নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের দৃষ্টি আর্কষণ করার উদ্যোগ নিব।

