বাইশে শ্রাবণ উপলক্ষে কবিগুরুর মূর্তিতে মাল্যদান চলছে সকাল থেকেই

মলয় দে নদীয়া:- এমনই এক বর্ষার দিনে তাঁর বিদায় যাত্রা হয়েছিল। বর্ষণ মুখরিত রাতে স্তব্ধ হয়েছিল তাঁর দিন রাত্রির কাব্য রচনা। বিদায় নিয়েছিলেন আমাদের সকলের প্রিয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজ ২২শে শ্রাবণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২ তম প্রয়াণ বার্ষিকী। বাংলার ১৩৪৮ সালের এই দিনেই তাঁর প্রিয় ঋতুতে নির্বাপিত হয়েছিল কবির জীবনপ্রদীপ। ইংরেজির সাল ছিল ১৯৪১। প্রকৃতিকে কাঁদিয়ে তার এমন প্রস্থানে শোকার্ত বিদ্রোহী কবি কাজু নজরুল ইসলাম সেদিন শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখেছিলেন, দুপুরের রবি পরিয়াছে ঢলে.. অন্ত পারে কোলে/বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে/শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে।
কবিদেরও কবি ছিলেন তিনি।যিনি মৃত্যুকে বন্দনা করেছেন
“মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান, মেঘবরণ তুঝ মেঘ জটাজুটা রক্ত কমল কর, রক্ত অধর পুট, তাপ বিমোচন করুণ কোর, তব মৃত্যু অমৃত দান করে।
স্কুলের গণ্ডি না পেরোলেও সারা পৃথিবীতে তিনি সেরা সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক, চিত্রকর , সঙ্গীতঞ্জ। তাঁর আরো নানা বিষয়ে সৃষ্টি এবং গুণাবলী এত বছর বাদেও সমগ্র ভারতবাসী মিলেও একত্রিত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বিভিন্ন ঋতু তো বটেই মানব জীবনে নানান পরিস্থিতিতে তার প্রবন্ধ ছোটগল্প কাব্য নাট্য রচনা রম্য রস সংগীত আজও সকল প্রজন্মের কাছে সমান গ্রহণযোগ্য।

আজ শান্তিপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে, পৌরসভা সংলগ্ন রবীন্দ্র কাননে, তাঁর পূর্ণ মূর্তিতে মাল্যদান করেন, পৌরসভার পুরো প্রধান সুব্রত ঘোষ, উপ পুরো প্রধান কৌশিক প্রামানিক, কাউন্সিলর দীপঙ্কর সাহা, উৎপল সাহা, কাউন্সিলর প্রতিনিধি শাজাহান শেখ, পুরো সভার প্রধান করণিক উদয়ন মুখোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন কর্মচারীবৃন্দ।
অন্যদিকে শান্তিপুর চৌগাছা পাড়ার রবীন্দ্রনাথের পূর্ণ মূর্তিতে মাল্যদান করেন, শান্তিপুর পূর্ণিমা মিলনীর সদস্যবৃন্দরা। এ বাদেও শান্তিপুরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্লাব বারোয়ারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাট্য সংস্থা , নৃত্য গীতি অংকন আবৃত্তি বিষয়ক শিল্পীমহল তাদের নিজ নিজ ভাবে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
এই উপলক্ষে শান্তিপুরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে বিকাল এবং সন্ধ্যায়।