মলয় দে নদীয়া :-
শিবের মাথায় জল ঢালতে যাওয়ার বাঁশের বাক তৈরি করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে এক কিশোর ধারালো দা নিয়ে দুই বন্ধু মিলে, পাড়ার স্কুলের চতুর্দিকে ঘেরা লোহার ফলা আকৃতি গ্রিলের বেড়া টপকাতে গিয়ে, হাতের মধ্যে ঢুকে গেলো ফলা। এলাকাবাসীর সাথে তৎপর হয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ তড়িঘড়ি ওই গ্রিল কেটে চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করলেন ।
মারাত্মক এই ঘটনাটি নদীয়ার শান্তিপুর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডের হরে কৃষ্ণ জিএসএফপি বিদ্যালয়ে। ওই এলাকার স্বপন বিশ্বাস, কর্মসূত্রে থাকেন ভিন রাজ্যে। তার স্ত্রী দীপিকা এবং একমাত্র সন্তান সুজিত পরীক্ষার জন্যই রয়েছে শান্তিপুরে। সুজিত মিউনিসিপাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। শিবের মাথায় জল ঢালতে যাবার বাঁশের বাক তৈরির উদ্দেশ্যে, একটু ধারালো দা নিয়ে দুই বন্ধু রওনা দেয় পাড়ার মধ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্কে থাকা বাঁশ কাটতে। অপর দুই বন্ধু তাকে, লোহার ফলা আকৃতি ওই গ্রিলের বেড়া টকানোর সহযোগিতা করে, দুর্ঘটনা বসত তাদের হাত ফসকে সুজিত পড়ে জং ধরা ধারালো ফলার উপর, এরপর সুজিতের মা দীপিকা দেবীকে খবর দেয় ওই দুই বন্ধুর একজন। আতঙ্কে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয় গোটা পাড়া জুড়ে, প্রতিবেশীরা প্রাথমিকভাবে তার ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও ডান হাতের মধ্যে দিয়ে এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যাবার কারণে তা বের করতে সক্ষম হয় না তারা। শান্তিপুর থানায় খবর দেওয়ার সাথে সাথেই, সাব ইন্সপেক্টর অশোক বিশ্বাস হাজির হন সেখানে। লোহার গ্রিল কাটার মেশিন নিয়ে এসে ওই গ্রিলের টুকরোটো কেটে অসুস্থ ওই ছাত্রকে নিয়ে প্রথমে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছান তারা, এখানে আজ অজ্ঞানের ডাক্তার না থাকার কারণে, অপারেশন করা সম্ভব হয়নি এরপর তারা। শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের অর্থপেডিক সার্জেন্ট ডঃ মাইতির শরণাপন্ন হন, তড়িঘড়ি শ্রীকৃষ্ণ নার্সিংহোমে ভর্তি করিয়ে ওই গ্রিলের অংশ হাত থেকে বের করেন ডক্টর মাইতি। ঘটনার প্রথম থেকেই উপস্থিত ছিলেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহানন্দ বিশ্বাস। তিনি জানান আজ পুলিশ প্রশাসন না থাকলে এত দ্রুত এই অপারেশন করানো সম্ভব হতো না।
অন্যদিকে সুজিতের মা, দীপিকা দেবীও শান্তিপুর থানার পুলিশ বিশেষত এসআই অশোক বিশ্বাসের, তৎপরতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ডাক্তার মাইতির সম্পর্কে বলেন ভগবান। তিনিই ছেলের জীবন বাঁচিয়েছেন।

