তৃণমূলের প্রতীক চিহ্ন জোড়া ফুলের সাথে লড়াই তৃণমূলেরই কর্মীদের বেছে নেওয়া সাইকেল চিহ্ন, বর্তমানে বহিষ্কৃত হলেও জয়ের পরে কি হবে? তা নিয়েই জল্পনা

মলয় দে নদীয়া :-নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের গয়েশপুর পঞ্চায়েতের ৮ নম্বর বুথে তৃণমূলের জোড়া ফুল চিহ্নের প্রার্থী সাদ্দাম শেখ এবং এরিজা বিবি মন্ডল।
ওই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ার কারণে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী নেই তবে সিপিএমের রয়েছে দুজন। তৃণমূলের গয়েশপুর অঞ্চল সভাপতি আরমান শেখের কথা অনুযায়ী, তাদের প্রতিদ্বন্দী তাদের নিজেদের দলীয় কর্মীই। ৮ নম্বর বুথে সাইকেল চিহ্নে নির্দল প্রার্থী হয়েছেন খবির শেখ এবং তারই ঘনিষ্ঠ সামু বিবি খাতুন মন্ডল। অথচ নির্দল প্রার্থী খবির শেখের স্ত্রী মনোযান বিবিকে কে পার্শ্ববর্তী ৯ নম্বর বুথে তৃণমূল প্রার্থী করা হয়েছে। টিকিটের অনিশ্চয়তা বুঝে সেখানেও সালমা খাতুন নামে তার পরিবারের এক প্রার্থী করে রেখেছে নির্দল হিসেবে।দলের বিরুদ্ধে দলেরই গোঁজ প্রার্থী নিয়ে যথেষ্ট দুশ্চিন্তায় অঞ্চল সভাপতি। তবে এ বিষয়ে দলের ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, খবির শেখ বহিষ্কৃত হলেও অর্থ এবং কর্মীদের সক্রিয়তায় যথেষ্ট অস্বস্তিকর পরিবেশ হয়ে রয়েছে এই দুই বুথে।
এ বিষয়ে খবির শেখ , বলেন বলেন এলাকার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কে না চেয়ে আমাকে চাইলে আমার কিছু করার নেই। তবে তার স্ত্রী তৃণমূলের প্রার্থী এ বিষয়ে তিনি, বলেন সেটা দল জানে। যদি তিনি জয়লাভ করেন আগামী দিনের তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন সেটা তখনকার বিষয় তখন ভেবে দেখা যাবে।
এলাকার মানুষও সকলে একত্রিত হয়ে বক্তব্য রাখেন নির্দলের প্রতীক সাইকেলে ভোট প্রদানের উদ্দেশ্য। যার মধ্যে বেশিরভাগই তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেন নিজেরাই।
তবে সাইকেল চিহ্নের প্রতীক এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে, আগামী দিনে যে তারা বড়সড়ো ধাক্কা দিতে চলেছেন সে বিষয়ে, সন্দেহ নেই।
ইতিমধ্যে দল বিরোধী প্রার্থী হওয়ার কারণে নদীয়ার দক্ষিণ জেলায় ১৩ জনের মধ্যে শান্তিপুর ব্লকের তিনজন রয়েছে। যার মধ্যে গয়েশপুরের এই নির্দল প্রার্থী খবির শেখ যিনি বর্তমান অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সম্পাদক এবং বিগত দিনে একবার তিনি নিজে ও একবার তার স্ত্রী জয় লাভ করেন।
তবে শান্তিপুরে মোট তিন প্রার্থীকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বহিষ্কার করা হলেও, আগামীতে যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে, সেক্ষেত্রে বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তায় তাদের পুনরায় দলে অন্তর্ভুক্তি হয় কিনা এখন সেই দেখার প্রতীক্ষায় সাধারণ মানুষ। বিগত বিগত ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে, কখনো প্রয়োজনে কখনো বা প্রার্থীর আগ্রহে তৃণমূলে যোগদান করানো হয়েছে ১৩ জন নির্দল প্রার্থীকে। তবে এবার, দলের কড়া মনোভাব আদৌ কি বোর্ড গঠনের সময় একই থাকবে সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।