মলয় দে নদীয়া :- ঝড় নেই বৃষ্টি নেই, কিন্তু হঠাৎই হুড় মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো বহু প্রাচীন রাবার গাছের মোটা ডাল। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। অল্পের জন্য স্কুলের ছাত্রীরা সহ পথচারীরা। দুর্ঘটনাটি নদীয়ার শান্তিপুর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তরফদার পাড়ায় অবস্থিত শরৎকুমারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, ভয়ানক শব্দে তারা ওই গাছতলা থেকে সরে যেতেই সেখানে স্কুলের প্রাচীরের উপর ভেঙে পড়ে স্কুলে অবস্থিত সুবিশাল ওই গাছটি। ইলেকট্রিক তার, কেবল লাইনের তার ছিড়ে পরে রাস্তায়। এলাকাবাসী ইলেকট্রিক অফিসে জানালে সাথে সাথে বিদ্যুৎ বন্ধ করে করে দেওয়া হয়।
তবে এলাকার মানুষের দাবি, দীর্ঘদিন যাবত ওই গাছটি কাটার বিষয়ে বলেও কোন ফল মেলেনি, আজ আজ যদি প্রাণহানির মতন ঘটনা ঘটতই তাহলে তার দায়িত্ব থাকতো তাদের।
স্কুলের শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে, ক্ষোভ উগ্রে দিয়ে তারা বলেন, দোতলা থেকে তারা প্রত্যেকে দেখলেও, নিচে নেমে কোন ছাত্রী আহত হয়েছে কিনা তা দেখেননি অধিকাংশ শিক্ষিকাগণ।
তবে ভয়ংকর এই গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার ভয় পাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে স্কুলের মেয়েরাও, আটকে গাছ কাটার প্রতীক্ষায়।
যদিও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা ওই গাছ কেটে সরানোর চেষ্টা করছেন।
যদিও এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, পিতৃ বিয়োগের কারণে তিনি ছুটিতে থাকলেও, দুর্ঘটনা শোনার সাথে সাথেই বিদ্যালয়ে পৌঁছেছেন। এই গাছটি কাটার বিষয়ে ২০২০ সালে বনদপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছিলো, সেইমতো অনুমতি মিলেছিলো এক মাসের মধ্যে গাছটি কেটে নেওয়ার জন্য কিন্তু সে সময় লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় তা আর হয়ে ওঠেনি। পরবর্তীতে শান্তিপুর পৌরসভা সহ বনদপ্তরে জানানো হয়। তবে একটি গাছ কাটা বললেই তো কাটা নয়, স্কুলের হাতে থাকে না বিষয়টি। তবে এলাকার মানুষের আরো ধৈর্যশীল হতে হবে, এটা দুর্ঘটনা ইচ্ছাকৃত নয়। কুড়ি মিনিটের মধ্যে ইলেকট্রিক সাপ্লাইয়ের কর্মীরা এসেছে, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

