নিখোঁজ মা এবং ভাইয়ের দাবিতে মায়ের প্রেমিকের বাড়িতে ধর্না মেয়ের

মলয় দে নদীয়া :- নদীয়ার শান্তিপুর সাহাপাড়ার গৃহবধূ চম্পা প্রামানিক পেশায় তাঁত কাপড়ের ব্যবসায়ী। স্বামী এবং ১৮ বছরের মেয়ে ও 7 বছরের একটি ছেলে আছে তার। তা সত্ত্বেও, সূত্রাগর বিশ্বাস পাড়া স্ট্রিট কীর্তনের মাঠ এলাকায় কাকন দেবনাথ নামে এক চল্লিশোর্ধ এক বিডিও অফিসে সরকারি চাকরিরত ব্যক্তির সাথে পরকীয়ায় মত্ত হয় ব্যবসায়িক সূত্রে।
গত তিন দিন আগে, ওই মহিলা তার সাত বছরের ছেলে সহ নিখোঁজ হয় পরিবারের থেকে স্বামী এবং তার মেয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করে শান্তিপুর থানায়। আজ মেয়ে জানতে পারে, কাকন দেবনাথ তার মা এবং ভাইকে আটকে রেখেছে। বাবা তোতা প্রামানিক না আসলেও মেয়ে, কাকন দেবনাথের বাড়িতে ধরনায় বসে বিকাল থেকে, এ ব্যাপারে প্রতিবেশীদের সহযোগিতা চায়। কিন্তু কাকন দেবনাথ তার মায়ের সাথে সম্পর্ক স্বীকার করলেও নিরুদ্দেশ প্রসঙ্গে বলে, তিনি কিছুই জানেন না । শেষ তিন দিন তার সাথে, কোন ভাবে যোগাযোগ হয়নি। তাই তিনিও দুশ্চিন্তায় আছেন।
বিকাল থেকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও প্রচন্ড প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও মেয়ে তার সিদ্ধান্তে অনড় এদিকে মেয়ে তার বাড়ি থেকে কিছুতেই যেতে চায় না মা এবং ভাইকে না নিয়ে।
যদিও প্রতিবেশীরা বাড়ি তন্ন তন্ন খুঁজেও মেলেনি তাদের সন্ধান এমনকি কাকন দেবনাথ কে প্রশ্ন করেও মেলেনি হদিস। বাড়ির সামনে প্রচুর পথ চলতি এবং এলাকাবাসী লোকজন ভিড় করে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। অবশেষে স্থানীয় ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উৎপল সাহা এসে পৌঁছান ঘটনাস্থলে, তিনিও কোন সূরাহা করতে না পেয়ে, শান্তিপুর থানায় খবর দেন। সেখান থেকে পুলিশ এসে, নাবালিকা মেয়ের সাথে কথা বলে, থানায় লিখিত অভিযোগ জমা করতে বলেন।
যদিও পরকীয়া এখন আইন স্বীকৃত তাই মেয়ে লিখিত অভিযোগ করলেও আদৌ কি ফিরে পাবে তার ভাইকে? বাবা তোতা প্রামানিক পেশায় পাওয়ার লুম তাঁত শ্রমিক। আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে, স্ত্রী চম্পা প্রামানিককে কাপড়ের ব্যবসায় অনুমতি দেওয়াই হয়েছে কাল।
তবে প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সাথে থাকার কোনো আইনি বাধা নেই, তাই আদৌ কোন সমাধান হবে বলে জানা নেই। কিন্তু ছেলেমেয়ের আগামী দিনের পরিচিতি এবং সম্মান, যে স্বামী তাকে ভরণ পোষণ করে এতদিন দায়িত্ব নিল তার অপমানের কি হবে? প্রশ্ন প্রতিবেশীদের।