“ট্রেড কই” ! ব্যানারে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার নেই কেনো? ব্যবসায়ী প্রতিনিধির প্রশ্নের উত্তরে নদিয়া জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যকারী সভায়, তুমুল বাকবিতন্ডা, মেজাজ হারালেন যুগ্ম সম্পাদক গোকুল বিহারী সাহা

মলয় দে নদীয়া :- সম্প্রতি নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে ব্যবসায়িক সংগঠনের তত্ত্বাবধানে একটি জমির কাগজপত্র পুনরুদ্ধারের পর সম্পূর্ণ নতুন নামে গড়ে তোলা হয় এই সংগঠন। সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গেছে, সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন এফ টি ও অনুমোদন বা সরকারি রেজিস্ট্রেশন এখনো হয়নি। যদিও ৪১ জনকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিতে শান্তিপুর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠন বিস্তার লাভ করেছে। তবে পুরনো কিছু ব্যবসায়িক মুখ থাকলেও নতুন মুখদের বেশি লক্ষ্য করা যায়, অন্যদিকে পুরাতন বেশ কিছু মুখ বাদ যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে। তাদের অভিযোগ নিয়ম বহির্ভূতভাবে , পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়িক সংগঠন বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড ট্রেডের নদীয়া জেলা শাখা ও এফটিও এবং সরকার অনুমোদিত। কিন্তু কিছু ব্যবসায়ী পদের মোহে , এবং সংগঠনকে কুক্ষিগত করে রাখতে নতুন সংগঠন খুলেছে।
যদিও এ বিষয়ে, গত দুদিন আগে শান্তিপুর বড় গোস্বামী পাড়ায় শান্তিপুর তাঁত বস্ত্র ব্যবসায়ীর অফিসে এক জেলা কার্যকারী সমিতির মিটিং এ , উপস্থিত ছিলেন নতুন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক গোকুল বিহারী সাহা তারক দাস সভাপতি হরিদাস দে সহ শান্তিপুরের অরুণ ঘোষ বিভাগ ঘোষ প্রভাত বিশ্বাস সহ বিভিন্ন কার্যকরী কমিটির সদস্যগণ। এদিন উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান কৌশিক প্রামানিকও। সম্প্রতি নদীয়ার গর্ব কীর্তন গায়িকা অনুরাধা গোস্বামী সুপার সিঙ্গার সিজন চারে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী এবং নৃসিংহপুর অঞ্চল থেকে মা ও ছেলে একই সাথে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা লতিকা মন্ডল এবং সৌরভ মন্ডলকে সংবর্ধিত করা হয়।
আলোচনা সভার প্রায় শেষের দিকে
বেথুয়া ডহরি থেকে আসা এক ব্যবসায়ী প্রতিনিধির প্রশ্নে, মেজাজ হারান যুগ্ম সম্পাদক গোকুল বিহারী সাহা।
নতুন সংগঠনে ট্রেড কথাটি যুক্ত নেই কেনো? ব্যানারে রেজিস্ট্রেশন নাম্বারই বা কই , এই ধরনের প্রশ্নের গুঞ্জন আগত ব্যবসায়ী মহলে থাকলেও, ঔদ্ধত্যের কারণেই হয়তো আমাদের ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে চাননি তবে, বেথুয়া ডহরির ওই সাহসী ব্যবসায়ীর স্বাভাবিক প্রশ্নে তারাও সমর্থন জানাচ্ছিলেন।
আর তাতেই, যুগ্ম সম্পাদক বকুল বিহারী সাহা , প্রকৃতির তীব্র দাবদাহ ৩৯ ডিগ্রি তাপমাত্রাকেও হার মানালেন তার উত্তেজনা কর চিৎকার সহযোগে মন্তব্যে। ঘটনাটি ঘটে অতিথি হিসেবে আসা চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানের সামনেই, যদিও ওপর এক যুগ্ম সম্পাদক তারক দাস বিষয়টিকে নিষ্পত্তি করার জন্য অতিথিদের ঠাকুরবাড়ির মধ্যে নিয়ে যান, অন্যদিকে তাদের দুজনকে বোঝাতে থাকেন।
সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরেও মেজাজ হারালেন গোকুলবাবু। তবে সেটা নতুন কিছু বিষয় নয় কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে ব্যবসায়ী সমিতির সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধিতে নিজের গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে এসে, সংগঠন সম্পর্কে কোন প্রশ্ন না করতে পেরে , মনঃক্ষুণ্ণ অনেক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিই। তাদের মধ্যে অনেকেই জানালেন এই ঔদ্ধত্যের কারণেই হয়তো, জেলার ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ, রয়েছে মূল সংগঠনেই। যেখানে নদিয়া জেলা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেড এফটিও অনুমোদিত এবং রাজ্যের মধ্যে সর্ববৃহৎ এবং পুরাতন সংগঠন যা সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত। ছোট-বড় মাঝারি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভরসা পেয়েছেন ট্রেড কথাটি যুক্ত থাকার কারণে। ট্রেড বিহীন প্রায় একই নামে গড়ে তোলা নতুন সংগঠন আদৌ কি ব্যবসায়িক কল্যাণে কাজ করবে?
যদিও, গোকুল বাবু তার মাইকে বক্তব্য রাখার সময় বারংবার বলার চেষ্টা করছিলেন আগামী দিনে সমগ্র জেলা জুড়ে 10000 ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি সম্মেলন করতে চলেছেন। কিন্তু নবদ্বীপ, চাকদহ, বিরহী, আনুলিয়া, শান্তিপুরের একটি বড় অংশর মতোই অনেক ব্যবসায়ীদের সমর্থন ছাড়াই কিভাবে তা সম্ভব? তা দেখার জন্য হয়তো প্রতীক্ষায় থাকতে হবে আরো বেশ কিছুদিন।