হনুমানের আক্রমণের আতঙ্ক থেকে রেহাই পেল এলাকাবাসী ! বিলম্বে হলেও বনদপ্তরের তৎপরতায় উদ্ধার অসুস্থ হনুমান

মলয় দে নদীয়া :-
গতকাল সকাল থেকে বিকালের মধ্যে, ৬ জনকে হনুমানের কামড় এবং হাঁচড়। যার ফলে আতঙ্ক ছড়িয়েছিলো নদীয়ার শান্তিপুর গোবিন্দপুর কাজিবাড়ি মাঠ সংলগ্ন এলাকা এবং বিবেকানন্দ নগর এলাকায়।
এলাকার গৃহিনী হোক বা বৃদ্ধ, পথ চলতি সাধারণ মানুষ হোক বা কর্মরত মানুষজন বাদ দেয়নি কাউকেই।
কারণ ন’টা সেলাই তো কারোর পাঁচটি, তিনটি একটি দুটি তো প্রায় ১১ জন আহত সকলেরই সেলাই পড়েছে। শান্তিপুর হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা ছিল না এই এলাকা থেকে রোগীদের নিয়ে আগত মানুষজনের ভিড়ে।
গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৯ জনকে কামড়ানো এবং হাঁচড়ানোর পর স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য, বিধায়ক, বনদপ্তরকে জানান এলাকাবাসী।
সন্ধ্যার সময় বনদপ্তর এর প্রতিনিধিরা এসে পৌঁছালেও, অসুস্থ ওই হনুমানকে খাচা বন্দি করতে দীর্ঘ এক ঘন্টার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। খাঁচা রেখেই তারা চলে যান।
কিন্তু এলাকার যুবকরা অতন্দ্র প্রহরীর মতন এলাকাবাসীকে রক্ষার জন্য সারারাত জেগে ছিলেন নিজেদের মধ্যে পালা করে।
কিন্তু সকালে পাহারা একটু ঢিলা পরতেই, আবারো দুজনকে কামড়। এলাকায় যথেষ্ট বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়, সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনের জন্য। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আশ্বাস দেন দুপুরের মধ্যে, বনদপ্তরের প্রতিনিধিরা আসবে।
অন্যদিকে বাহাদুরপুর পলাশগাছি বিট অফিস থেকে জানানো হয়, ঘুম পাড়ানো গুলির সাহায্যে ওই হনুমানকে ধরার পরিকাঠামো তাদের কাছে নেই তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, রেঞ্জার অফিস থেকে বলা হয়, তাদের কাছেও এ ধরনের ব্যবস্থা নেই তাই মুর্শিদাবাদ থেকে তারা রওনা দিয়েছে। যদিও এসে পৌঁছায় দুপুর নাগাদ। এবং ওই হনুমানকে ট্রাঙ্কুলাইজেশন করে কৃষ্ণনগর অফিসে নিয়ে যায়। স্বস্তির নিঃশ্বাস বয় গোবিন্দপুর অঞ্চলে।
তবে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য স্বামী সঞ্জিত পাল পাল বনদপ্তরের কাছে অনুরোধ করেন, আরো দ্রুততম ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য, কারণ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ব্যবস্থা পৌঁছাতে যদি এতটা সময় লাগে, তাহলে মানুষের আতঙ্ক আরো বাড়বে। তবে তিনি শান্তিপুর থানা সহ সব রকম প্রশাসনিক মহলের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। ধন্যবাদ জানান এলাকার মানুষের ধৈর্য সহকারে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার এবং এলাকার মানুষকে রক্ষা করার জন্য।