চুরি করতে এসে গৃহস্থের স্ত্রীর পাশে শোওয়ার আবেদন চোরের, এক রাতে শহরের ৭ বাড়িতে গনচুরি

মলয় দে নদীয়া :- গণ ডেপুটেশন গণ-আন্দোলন কথাগুলো পরিচিত হলেও গন চুরির দৃষ্টান্ত বোধহয় নদীয়ার শান্তিপুরেই মেলে। একই রাত্রে শহরের ২৩, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থল রাধাকৃষ্ণ পল্লী এক নম্বর শান্তিগড় কলোনি, লালবেদি এলাকার সাত বাড়িতে গণ চুরি হয়েছে গতকাল রাতে।
চুরিতে এতটাই পটু তা বোঝা গেছে, রাধাকৃষ্ণ পল্লীর রেখা দাসের বাড়িতে। সেখানে স্বামী বাড়ি না থাকায়, রেখা দেবীর শোয়ার ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে চোরের দুঃসাহসিক আবেদন তার পাশে শোয়ার। তার গলার সোনার চেন ধরে টানতেই, তিনি চিৎকার চেঁচামেচি করলে পাশের ঘরে ছেলে এবং বৌমা ছুটে আসার আগেই পলাতক চোর ।
মৌসুমী ব্যানার্জির বাড়িতে ২০০০ টাকা এবং ফোন নিয়ে চম্পট দেয় চোর।
লিটন বিশ্বাসের পরিবার সদস্যরা বারান্দার গ্রীলে তালা দিয়ে শুয়ে থাকা সত্ত্বেও ঘরের আলমারী ভেঙে তিন হাজার টাকা এবং মোবাইল নিয়ে যায় চোর। এ প্রসঙ্গে লিটন বাবু বলেন তার মেয়ে, রাতে অন্তত তিনবার ওঠে কিন্তু গতকাল সকলেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলো, তাদের আশঙ্কা ঘুমের কোন স্প্রে করা হয়েছিলো।
এই ঘটনার পরে চেঁচামেচি হতেই প্রতিবেশী নমিতা বিশ্বাস বাড়িতে আসেন, ফিরে গিয়ে দেখেন, বারান্দায় রাখা সাইকেল উধাও।
এক নম্বর শান্তি বাসিন্দা, গণেশ মণ্ডলের মোবাইল নেওয়ার পরেও চুরির চেষ্টা বানচাল হয় তার মায়ের চেঁচামেচিতে।
দালাল পাড়ার দীপক মল্লিকের বাড়ি থেকে নগদ তিন হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল চুরি হয় গতকাল রাতেই।
ওই এলাকারই হারাধন সিংহের গ্রিলের দরজার তালা ভেঙে, হ্যাঙ্গারে ঝুলন্ত প্যান্ট নিয়ে চলে যায় বেশ খানিকটা, তার স্ত্রী অন্ধকারে ঘরের মধ্যে একজনকে দেখতে পেয়ে
জাপটে ধরতে চেষ্টা করে, হাতের ক্যাশ বাক্স বারান্দায় ফেলে, মহিলাকে ধাক্কা দিয়ে চোর পালায়।
যদিও কিছুটা দূরে গিয়ে চুরি করা ওই প্যান্টের পকেট থেকে মানিব্যাগে রাখার ২ হাজার টাকা এবং সাইড পকেটে রাখা ২ হাজার টাকা নিয়ে সেখানেই প্যান্ট ফেলে, চোরের চটি জোড়া ফেলে রেখে পালায়।
শহরে একই রাত্রে এই সাত বাড়িতে চুরির পরিপ্রেক্ষিতে চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ এলাকাবাসীদের। তাদের দাবি পুলিশিটহলদারি বাড়ুক। আজ সকালে বেশ কয়েকটি বাড়িতে শান্তিপুর থানার পুলিশ উপস্থিত হয়, তবে সিসি ক্যামেরা না থাকার জন্য তদন্ত খুব সহজ নয়।
তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গৃহস্থের উদাসীনতাও চোখে পড়ে তাদের। নিজেদের সাবধান হওয়া প্রথম প্রয়োজন মনে মনে করছে, শান্তিপুর থানার পুলিশ।