আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত শান্তিপুর নৃসিংহ পুর ফেরিঘাটে অটো এবং টোটো সংগঠনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে, মারধরের অভিযোগ,দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত

মলয় দে নদীয়া:-বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসলেও, শান্তিপুর নৃসিংহপুর ঘাটে একই আইএনটিটিইউসি অনুমোদনপ্রাপ্ত টোটো ইউনিয়ন এবং অটো ইউনিয়নের মধ্যে বিবাদ দীর্ঘদিনের। একে অন্যের অবৈধতা দাবি করে নিজেদের বহু পুরনো সংগঠন বলে দাবি করে থাকেন। যদিও সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কয়েক বছর আগে টোটোর কমিটি গঠন হলেও অটোস্ট্যান্ড,ও দীর্ঘদিনের । তবে নিজেদের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করতে নেতৃত্ব হিমশিম খায় মাঝেমধ্যেই।
আজ শান্তিপুর নৃসিংহ পুর রুটে অটো এবং টোটো দুই বন্ধক্ষন থাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে। যদিও বাস চলাচল থাকে স্বাভাবিক।
অটো ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তারা জানান, তারা দীর্ঘদিন যাবত লাইসেন্স রুট পারমিট ধোঁয়াচেক সহ নানা বিষয়ে সরকারি নিয়ম নীতি মেনে চলেন এবং ট্যাক্স দিয়ে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি টোটোর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে তারা রীতিমতন তাদের মূল স্ট্যান্ড থেকে ঠেলে বের করে দিয়েছে। আজ সকালে মারধর করা হয়েছে সুজন বিশ্বাস নামে তাদের এক অটো ড্রাইভারকে। এমনকি আজ ভাড়া ধরতে গিয়ে, তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে টোটো চালকদের পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে টোটো চালকদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট পথে চলুক অটো। হাটবার বা স্কুল কলেজে পরীক্ষা চলাকালীন তারা সূত্রাগর এর মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে, নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার না করেই যেদিকে যাত্রির সংখ্যা বেশি সেদিক দিয়ে ইচ্ছামত যাতায়াত করে। এমনকি ঘাটের পাড়ে প্রতীক্ষায় থাকে, যাত্রীদের তাড়াতাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জোরপূর্বক তাদের অটোতে প্যাসেঞ্জার তোলেন। কখনো কখনো টোটো সম্পর্কে নানান কুকথা, এবং বিতর্কমূলক কথা বলে পরিস্থিতি প্রতিকূলে নিয়ে যান।
যদিও দুই পক্ষই আস্থাশীল তাদের নেতৃত্বের উপর, শান্তিপুর ব্লক এ আইএনটিটিইউসি নেতৃত্ব সৌমেন্দ্র নারায়ন দাস বলেন সমস্যা দীর্ঘদিনের। এর আগেও বসা হয়েছে বেশ কয়েকবার। তবে প্রত্যেকেই আমাদের শ্রমিক সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত। দুই একদিনের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে, জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি সনৎ চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে এর নিষ্পত্তি হবে এই বিশ্বাস রাখি।
তবে সনৎ চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনিও যথেষ্ট চিন্তিত, অতীতে পুলিশ প্রশাসন পর্যন্ত মধ্যস্থতা করেও সমাধানের রাস্তা মেলেনি। দুটো সংগঠনের পৃথক দুটি স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করলেও, মূলত প্যাসেঞ্জার তোলা নিয়ে তাদের মধ্যে বচসা লেগে থাকে প্রায়শই। তবে সংগঠন থেকে এবার, কড়া ভাবে দেখা হচ্ছে বিষয়টি, মারধরের ঘটনাটি খতিয়ে দেখে দোষীকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।