মলয় দে নদীয়া:-বিগত কয়েক বছর পূর্বে রাম নবমীর পূজো, বর্তমান পূজার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। পূর্বে প্রশাসনিক হোক বা রাজনৈতিক দলের বাধা এখন আর নেই, আনছেন বিজেপি আরএসএস কর্মী সমর্থকরাও।
তা বলে উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ শুধুমাত্র পৌরসভার সামনে কেনো?
শান্তিপুর হরিপুর অঞ্চলে রামনবমী উপলক্ষে বহু প্রাচীন। বিভিন্ন মন্দিরে এমনকি বাড়িতেও রামনবমীর পুজোর প্রচলন ছিলো আগেও। তবে এবছর আরএসএস বিজেপি এবং আরএসএসের পক্ষ থেকে পাঁচটি পুজো পালিত হচ্ছে মহাসমা রহে। এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহানন্দ বিশ্বাস, শান্তিপুর মহিলা মোর্চার সভানেত্রী এবং শান্তিপুর রামনবমী পালন কমিটির সম্পাদিকা রীনা ভৌমিক অনেকেই এই মতামত ব্যক্ত করেছেন।
কিন্তু পৌরসভার রেলিংএ ধর্মীয় ফ্ল্যাগ প্রধান গেটের দুপাশে রামনবমীর হোডিং লাগানোতে মনক্ষুণ্ণ খোদ পুরো প্রধান সুব্রত ঘোষ। তিনি বলেন এ বিষয়ে, বিজেপির দুই কাউন্সিলর কে তিনি জানতে চাইবেন, এর মানে কি?
শুধু ধর্মীয় বলে নয় যে কোন রাজনৈতিক দল এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছেও তিনি করোজোরে আবেদন করেছেন শান্তিপুর পৌরসভা এবং সংলগ্ন রবীন্দ্র কাননে যাতে কোন বিজ্ঞাপন বা হোডিং লাগানো না হয় তার জন্য। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে, রাস উৎসবের প্রাক্কালে মাননীয়া মুখ্য মন্ত্রীর আগমন হেতু তিনি পৌরসভার বাইরে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগতম জানিয়ে একটি হোডিং লাগিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও বাদ দেয়নি তারা, ধর্মীয় হোক বা যেকোনো সামাজিক সংস্থা তাদের প্রচার উদ্দেশ্যে ব্যানার হোডিং ফেস্টুন লাগাতে পারেন তবে নিশ্চয়ই মুখ্যমন্ত্রী কে আড়াল করে নয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শান্তিপুর শহর যুবতৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর সাহা। তিনি বলেন, পৌরসভার বিষয়টি চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান খতিয়ে দেখুক তবে মুখ্যমন্ত্রীর মুখের সামনে এমনকি ওই হোডিং এর কাঠের সাথে বাধা গেরুয়া পতাকায় পড়েছিল তাদের প্রিয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ। তাই নিজে হাতে সরিয়ে পাশে একটি বাঁশের খুঁটিতে বেধে দিয়েছি। যারা এ ধরনের কাজ করছেন, তারা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবেই করেছেন। কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই শিক্ষা দেন না। তাই শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং ভক্তি জানিয়ে, ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
যদিও এ প্রসঙ্গে, শান্তিপুর বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রী এবং শান্তিপুর রামনবমী পালন সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদিকা রীনা ভৌমিক জানান,
দলীয় ফ্ল্যাগ ফেস্টুন হোডিং লাগাতে যাওয়ার সময় কোন নেতা নেত্রী থাকে না। সেক্ষেত্রে সমর্থকরাই এ কাজ করে থাকে। যদি সে ক্ষেত্রে কোন ত্রুটি বিচ্যুতি হয়ে থাকে
বিষয়টি শান্তিপুর পুরসভার পক্ষ থেকে বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপি আরএসএস কে জানানো যেতে পারতো। নিজে হাতে ফ্ল্যাগ সরানোও কোন বাহাদুরির কাজ নয়। এ বিষয়ে আমরাও খতিয়ে দেখছি।

